“শাক্ত হিন্দু ধর্মের মূলেই তো মাংস!”-বাগেশ্বরবাবাকে সপাট জবাব অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব স্যানালের

দুর্গাপুজোয় আমিষ ভোজনকারীদের ‘পাষণ্ড’ বা ভণ্ড বলে আক্রমণ করার পর থেকেই তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক তরজা শুরু হয়েছে বাংলায়। মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে যখন চারদিকে প্রতিবাদের ঝড় বইছে, তখন এবার বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত জোরালো আক্রমণ শানালেন প্রখ্যাত বাঙালি অর্থনীতিবিদ তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অর্থনৈতিক পরামর্শদাতা সঞ্জীব স্যানাল।

সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্স-এ একটি পোস্টে সঞ্জীব স্যানাল স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “শাক্ত হিন্দু ধর্মের মূলেই মাংস রয়েছে। প্রাচীন রীতি অনুযায়ী এটি মা দুর্গা ও কালীকে নিবেদন করা হয়।” এমনকি দুর্গাপুজোর নবমী বা দশমীর দিনগুলিতে ভক্তদের মাংস প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করার দীর্ঘদিনের প্রাচীন রীতি রয়েছে বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। বাঙালি এই অর্থনীতিবিদের সাফ কথা, শত শত বছরের এই পবিত্র সংস্কৃতি ও রীতিতে বাইরের কারোর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এসে বাগেশ্বর বাবা দাবি করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের দুর্গা প্যান্ডেলগুলির পেছনে আমিষ ও অপবিত্র খাবার খাওয়া হয়, যা তাঁর একেবারেই পছন্দ নয়। এই মন্তব্যের পরেই বাংলার ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোলে’ মাঠে নেমেছে রাজ্য বিজেপিও। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে সফররত কোনো ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বাঙালিরা কী খাবে বা কী পরবে, তা ঠিক করে দিতে পারেন না। তাঁর বক্তব্য, “আমাকে আমার ইচ্ছামতো বাঁচতে দিন। বাঙালিরা যা খেয়ে আসছে, তাই খাবে। বাঙালিরা কি মাছ-মাংস খেতে পারে না? স্বামী বিবেকানন্দই তো আমিষ খাওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর উপরে কে আছেন?”

শমীকবাবু আরও জানান, বাংলায় মা কালীকে খাসির মাংস নিবেদন করার প্রথা রয়েছে এবং অষ্টমীতে লুচি ও নবমীতে খাসির মাংস খাওয়া বাংলার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেউ বাইরে থেকে এসে বা ভিনরাজ্যের সাধু-সন্তরা এসে বাংলার মানুষকে খাদ্যাভ্যাসের পাঠ পড়াতে পারেন না বলেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে দলীয় নেতৃত্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *