প্রার্থী পাচ্ছে না তৃণমূল! নন্দীগ্রামের পর এবার কী তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতবে বিজেপি?

দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই রাজনৈতিক উত্তাপ এবার চড়বে বাংলায়। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি এবার বিধানসভা উপনির্বাচনের দামামা বেজে গেছে মুর্শিদাবাদের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র রেজিনগরেও। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর শক্তঘাঁটি নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীই খুঁজে না পাওয়ায় সেখানে ফলতার মতো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। তবে ঠিক তার উলটো চিত্র তৈরি হয়েছে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে, যা শাসকদলের কাছে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা—এই দুই আসনেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। পরবর্তীতে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে নতুন করে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৬৮ শতাংশ মুসলিম এবং মাত্র ৩৮ শতাংশ হিন্দু ভোটার বিশিষ্ট এই কেন্দ্রে সমীকরণ বেশ জটিল। বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর এখানে ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন, যেখানে বিজেপি প্রার্থী বাপান ঘোষ ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তৃণমূল, কংগ্রেস ও বামেরা সংখ্যালঘু প্রার্থী দিলেও ভোটের সিংহভাগ বাক্সেই ছিল হুমায়ুনের কবজা।

তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন ধরে দুটি শিবির তৈরি হওয়ায় এবং স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে এই উপনির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে ‘বাঁশি’ প্রতীক নিয়ে লড়বেন তাঁর পুত্র গোলাম নবি আজাদ (রবিন)। বাবা হুমায়ুনের দাবি, এলাকার মানুষ এবারও তাঁদের পাশেই থাকবেন এবং গতবারের মতোই বিপুল মার্জিনে জয় নিশ্চিত। অন্যদিকে, মমতার শিবির থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় প্রার্থী দেওয়ার কথা জানালেও খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখানে লড়বেন কিনা, তা নিয়ে জল্পনা রয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং বাম-কংগ্রেসের তরফেও প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্ব এবং নির্বাচন কমিশনে আসল দল কোনটি তার ফয়সালা না হওয়ায় বিরোধী শিবিরের ভোট কাটাকাটির সম্ভাবনা প্রবল। তবে প্রশ্ন উঠছে, সমস্ত হিন্দু ভোট বিজেপির ঝুলিতে গেলেও এবং সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগি হলেও রেজিনগরের এই কঠিন লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে হাসবে শেষ হাসি? নন্দীগ্রামের মতো এখানে ‘কেকওয়াক’ যে হবে না, তা স্পষ্ট রাজনৈতিক মহলের কাছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *