‘অল্প বয়সের প্রগলভতা আর বাচালতা!’ বাগেশ্বর বাবাকে চরম আক্রমণ স্বামী পরমাত্মানন্দের

রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের পদধূলিধন্য মাটিতে পা রেখে ‘বাগেশ্বর বাবা’ অর্থাৎ ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী সম্প্রতি এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন। তাঁর দাবি, দুর্গাপুজোর সময়ে যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা নাকি ‘ভণ্ড’। স্বাভাবিকভাবেই এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যুগ যুগ ধরে নিজের নিয়মে দুর্গাপুজোয় মেতে ওঠা বাঙালি কী খাবে, তা কি এবার মধ্যপ্রদেশের এক হিন্দিভাষী বাবা ঠিক করে দেবেন? ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর এই ফতোয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সনাতন ধর্ম বিশেষজ্ঞ স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজ।
‘অল্প বয়সের প্রগলভতা ও বাচালতা’
বাগেশ্বর বাবাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পেলেই এই ধরনের বাচালতা মানা যায় না। তাঁর প্রশ্ন, যিনি নিজের বোনকে হিন্দু ধর্মে আটকে রাখতে পারেননি এবং যার বিরুদ্ধে কৃষকদের জমি দখল করে হনুমানজির মন্দির তৈরির চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাঁর মুখে ধর্মীয় নীতিশিক্ষা মানায় না। এই ধরনের আচরণকে স্রেফ অসভ্যতা ও বর্বরতা বলেই আক্রমণ করেছেন তিনি।
নবরাত্রি আর বাংলার দুর্গোৎসব কি এক?
পরমাত্মানন্দ মহারাজের মতে, বাগেশ্বর বাবা সারা ভারতবর্ষে প্রচলিত ‘নবরাত্রি’র আচার আর বাংলার ‘দুর্গোৎসব’কে গুলিয়ে ফেলেছেন। বাংলার দুর্গোৎসব কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এর মধ্যে পৌরাণিক, বৈদিক, স্মার্ত, তান্ত্রিক এবং অন্ত্যজ পরম্পরার বহুস্তরীয় ছাপ রয়েছে। নবমীর বলিদানের পর ‘শবরোৎসব’-এর মতো প্রাচীন লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা একটি জাতির দীর্ঘ ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য, যা কোনো একক ফতোয়ায় বা ব্যক্তির খামখেয়ালে চলতে পারে না।