আপনার অজান্তেই কি অন্য কেউ চালাচ্ছে আপনার আধার কার্ডের সিম? বড় বিপদের আগেই জেনে নিন বাঁচার উপায়!

আপনার আধার কার্ড ব্যবহার করে আপনার অজান্তেই যদি কেউ সিম কার্ড তুলে নেয়, তবে তার সমস্ত আইনি দায় আপনার ঘাড়েই এসে পড়তে পারে। সেই নম্বর দিয়ে যদি কোনও অপরাধ, আর্থিক জালিয়াতি বা ভুয়া কল করা হয়, তবে পুলিশ সবার আগে আপনাকেই জেরা করবে। কেন্দ্রীয় টেলিকম বিভাগ (DoT)-এর নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বাধিক ৯টি সিম রাখতে পারেন, তবে জম্মু-কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে এই সীমা ৬টি। সম্প্রতি আধার তথ্য ফাঁসের ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, তাতে নিজের নামে ঠিক ক’টি সিম অ্যাকটিভ রয়েছে তা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কীভাবে চেক করবেন আপনার আধার দিয়ে কয়টি সিম চলছে?
এই কাজের জন্য আপনাকে কোথাও যেতে হবে না। কেন্দ্র সরকারের অফিসিয়াল ‘সঞ্চার সাথী’ (Sanchar Saathi) পোর্টালের ‘টাফকপ’ (TAFCOP) সাইটে গিয়ে মাত্র দুই মিনিটেই বিষয়টি যাচাই করতে পারবেন। এর সহজ ধাপগুলি দেখে নিন:
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান: প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে tafcop.sancharsaathi.gov.in বা sancharsaathi.gov.in পোর্টালে প্রবেশ করুন। এটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত একটি সরকারি ওয়েবসাইট।
মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন: ওয়েবসাইটের ‘সিটিজেন সেন্ট্রিক সার্ভিসেস’ (Citizen Centric Services) অংশের মধ্যে থাকা ‘নোভ ইওর মোবাইল কানেকশনস’ (Know Your Mobile Connections) অপশনে ক্লিক করুন। এরপর আপনার আধার কার্ডের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বরটি দিয়ে ক্যাপচা কোড পূরণ করুন। মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP) দিয়ে লগইন করুন।
তালিকা দেখে অচেনা নম্বর রিপোর্ট করুন: লগইন করলেই আপনার আধার দিয়ে তোলা সমস্ত সক্রিয় মোবাইল নম্বরের একটি তালিকা স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। সেই তালিকা ভালোভাবে যাচাই করুন। যদি এমন কোনো নম্বর দেখতে পান যা আপনি চেনেন না বা ব্যবহার করেন না, তবে সেটির পাশে থাকা বক্সে টিক দিন।
রিপোর্টিং পদ্ধতি: নম্বর সিলেক্ট করার পর নিচে তিনটি অপশন দেখতে পাবেন— ‘দিস ইজ নট মাই নম্বর’, ‘নট রিকোয়ার্ড’ এবং ‘রিকোয়ার্ড’। অচেনা নম্বরের ক্ষেত্রে প্রথম অপশনটি বেছে নিয়ে ‘রিপোর্ট’ বাটনে ক্লিক করুন।
টেলিকম কোম্পানি এরপর বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং জালিয়াতি প্রমাণিত হলে ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে সেই নম্বরটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া আপনি একটি ‘রিকোয়েস্ট আইডি’ পাবেন, যার মাধ্যমে পরবর্তীতে স্ট্যাটাস ট্র্যাক করতে পারবেন।
সচেতন থাকার কিছু জরুরি টিপস:
দোকানে সিম তুলতে গেলে কখনোই আধারের ফটোকপি ফেলে আসবেন না। ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিশ্চিত করুন যে দোকানদার আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডেটা বা বায়োমেট্রিক তথ্য ডিলিট করে দিয়েছেন। সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বছরে অন্তত একবার এই পদ্ধতিতে নিজের নামে থাকা সিমের তালিকা যাচাই করা উচিত।