বঙ্গে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ! এক সপ্তাহে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা জানলে শিউরে উঠবেন!

রাজ্যজুড়ে ফের চোখ রাঙাতে শুরু করেছে ডেঙ্গি। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ৫০০-র বেশি মানুষের শরীরে ডেঙ্গি সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর ফলে চলতি বছরের বর্ষার মরসুমে রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে চার হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ক্রমবর্ধমান এই সংক্রমণ রুখতে তৎপর হয়েছে প্রশাসন।

স্বাস্থ্য দফতরের কঠোর পদক্ষেপ ও এসওপি (SOP)

ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখতে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ (SOP) বা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর আওতায় রাজ্যজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানো এবং উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, এই ব্যাপক তল্লাশি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলেই গত এক সপ্তাহে এত বিপুল সংখ্যক নতুন আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে।

ডেঙ্গির সংক্রমণ ও প্রধান লক্ষণগুলি

প্রধানত স্ত্রী এডিস মশার কামড়েই এই ভাইরাল রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ানোর পর ভাইরাসটি তার শরীরে প্রবেশ করে এবং ৮-১০ দিনের মধ্যে লালাগ্রন্থির মাধ্যমে সুস্থ মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। শরীরে ভাইরাস ঢোকার ৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

ডেঙ্গির প্রধান লক্ষণগুলি হল:

  • হুট করে তীব্র জ্বর এবং সঙ্গে কাঁপুনি।

  • অসহ্য মাথা যন্ত্রণা ও চোখের পেছনের দিকে তীব্র ব্যথা।

  • খিদে কমে যাওয়া এবং মুখে স্বাদ না থাকা।

  • বমি বমি ভাব ও বারবার বমি হওয়া।

বাঁচার উপায় ও করণীয়

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গি প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় উপায় হলো মশার বংশবৃদ্ধি রোধ করা।

  • বাড়ির আশপাশে জল জমতে দেওয়া যাবে না এবং জমে থাকা জল দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে।

  • দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে বাঁচতে ফুল হাতা জামাকাপড় ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

  • বিশেষ করে ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *