পুরোনো লণ্ঠনে দশাবতারের ছোঁয়া! হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য আজ কলকাতা থেকে দিল্লিতে সুপারহিট, দাম জানলে চমকে যাবেন!

একসময় গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে অন্ধকার দূর করার প্রধান ভরসা ছিল ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণুপুরী লণ্ঠন। কিন্তু আধুনিকতার দাপটে সেই লণ্ঠন আজ প্রায় অস্তিত্বের সংকটে। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং আধুনিকতার ছোঁয়া লাগিয়ে এই হারিয়ে যেতে বসা লণ্ঠনকেই এবার উপার্জনের নতুন মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলছেন বাঁকুড়ার শিল্পীরা। কলকাতার পাশাপাশি দিল্লি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এর কদর!

বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের এই ঐতিহ্যবাহী লণ্ঠনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রম ও ইতিহাস। একসময় যেখানে মাসে ৫০-৬০টি লণ্ঠন বিক্রি হতো, সেখানে আধুনিকতার প্রভাবে চাহিদা কমতে কমতে তা পাক্ষিকে মাত্র তিন-চারটিতে ঠেকেছিল। কারিগরদের গলায় ছিল শুধুই বঞ্চনা ও আক্ষেপ।

নতুন রূপে দশাবতার তাস এই বিলুপ্তপ্রায় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন বিষ্ণুপুরের শিল্পী শিল্পা সূত্রধর। বাজার থেকে লণ্ঠন কিনে এনে তার চার দেয়ালে রং-তুলির আঁচড়ে তিনি ফুটিয়ে তুলছেন বিষ্ণুপুরের বিখ্যাত ‘দশাবতার’-এর ছবি। প্রাচীন দশাবতার তাসের সেই শিল্পভাবনা এখন লণ্ঠনের গায়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিটি হ্যান্ড-পেইন্টেড লণ্ঠন ৪৫০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এই অনন্য সৃষ্টি দেখার জন্য এবং কিনতে এখন গড়বেতা, কলকাতা এমনকি সুদূর দিল্লি থেকেও ক্রেতারা ছুটে আসছেন বিষ্ণুপুরে।

কেরোসিন ছাড়াই আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া শুধু রূপ বদলেই ক্ষান্ত হননি শিল্পীরা, লণ্ঠনের অন্দরেও এসেছে বড় পরিবর্তন। কেরোসিনের যুগ পেরিয়ে এখন পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যাটারি বা ইলেকট্রিক চালিত আলো। অর্থাৎ, একদিকে প্রাচীন দশাবতার তাসের ঐতিহ্য এবং অন্যদিকে আধুনিক আলোর প্রযুক্তির এই অপূর্ব মেলবন্ধন ঘর সাজানোর সামগ্রী হিসেবে দারুণভাবে নজর কাড়ছে ক্রেতাদের।

অন্ধকার দূর করার পুরোনো ভূমিকা হারালেও, এই লণ্ঠন আজ বাংলার ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এক নতুন আলোর দিশারী হয়ে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *