মিউচুয়াল ফান্ড ও ইটিএফ বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় খবর! সেবির নতুন নিয়মে রাতারাতি পালটে গেল সোনা-রুপার ট্রেডিং নিয়ম

এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ (ETF) বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিয়ে এসেছে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি (SEBI)। গত ৭ই সেপ্টেম্বর থেকে সেবির এই নতুন নিয়মাবলী আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। মূলত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে এই নিয়ম চালুর কথা থাকলেও, এক্সচেঞ্জগুলোকে তাদের প্রযুক্তিগত সিস্টেম আপডেট করার জন্য অতিরিক্ত এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। সেবির এই নতুন নির্দেশিকাগুলির ফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে সোনা ও রুপার ইটিএফ ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে। এখন থেকে বাজারের বড় ধরনের ওঠানামার সময়েও কোনো ইটিএফ-এর দাম তার আসল বা অন্তর্নিহিত মূল্য থেকে অতিরিক্ত বিচ্যুত হবে না।
পুরোনো ব্যবস্থার মূল সমস্যা কোথায় ছিল?
প্রতিটি ETF মূলত দুটি নির্দিষ্ট সংখ্যার সঙ্গে যুক্ত থাকে—একটি হলো এনএভি (NAV) এবং অন্যটি বাজার মূল্য। বাজার মূল্য সম্পূর্ণভাবে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের পারস্পরিক লেনদেনের ওপর নির্ভর করে, অন্যদিকে এনএভি হলো ফান্ডে থাকা সিকিউরিটিজের প্রতি-ইউনিট প্রকৃত মূল্য। নিয়ম অনুযায়ী, এই দুটির মধ্যে খুব বেশি ফারাক থাকা উচিত নয়। পুরোনো পদ্ধতিতে এক্সচেঞ্জগুলি দৈনিক ভিত্তি মূল্য নির্ধারণের জন্য দুই দিনের পুরনো এনএভি (T-2 NAV) ব্যবহার করত।
শার্প ফিনান্সিয়ালস-এর প্রতিষ্ঠাতা বালকৃষ্ণ বাগাদিয়ার মতে, পুরোনো পদ্ধতিতে একটি বড় ত্রুটি ছিল। কোনো ইটিএফ-এর ন্যায্য মূল্য হঠাৎ বেড়ে গেলে ২০ শতাংশ সার্কিট লিমিটের কারণে ট্রেডিং বন্ধ হয়ে যেত, ফলে সেটি আর প্রকৃত মূল্যে পৌঁছাতে পারত না। তাছাড়া ইক্যুইটি থেকে শুরু করে ওভারনাইট বন্ড কিংবা সোনা—সব ধরনের ইটিএফ-এর ক্ষেত্রেই একই ২০ শতাংশের নিয়ম প্রযোজ্য ছিল, যা বাস্তবে খুব একটা যুক্তিযুক্ত ছিল না।
ভিত্তি মূল্য নির্ধারণের নতুন পদ্ধতি ও প্রাইস ব্যান্ড
সেবি এখন বেস প্রাইস বা ভিত্তি মূল্য গণনার পুরনো পদ্ধতি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। এখন থেকে আর দুই দিনের NAV-এর উপর ভিত্তি করে বেস প্রাইস নির্ধারিত হবে না। এর পরিবর্তে আগের ট্রেডিং সেশনের শেষ ৩০ মিনিটে হওয়া ট্রেডগুলোর ভলিউম-ওয়েটেড অ্যাভারেজ প্রাইস (VWAP)-এর ওপর ভিত্তি করে এটি নির্ধারিত হবে। সহজ কথায়, নতুন ট্রেডিং রেঞ্জ ঠিক সেখান থেকেই শুরু হবে, যেখান থেকে আগের সন্ধ্যায় ইটিএফটির ট্রেডিং শেষ হয়েছিল।
এর পাশাপাশি প্রতিটি অ্যাসেট ক্লাসের প্রকৃতি অনুযায়ী আলাদা প্রাইস ব্যান্ড ঠিক করে দিয়েছে সেবি:
ইক্যুইটি এবং ডেট ইটিএফ: এগুলির প্রাথমিক ট্রেডিং রেঞ্জ ১০ শতাংশ রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনে ধাপে ধাপে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। প্রতিবার এই সীমায় পৌঁছালে ১৫ মিনিটের একটি কুলিং-অফ ব্রেক থাকবে।
সোনা ও রুপার ইটিএফ: এই ক্ষেত্রে নিয়ম আরও নমনীয় করা হয়েছে। ট্রেডিং ৬ শতাংশ রেঞ্জে শুরু হবে। যেহেতু বৈশ্বিক বুলিয়ন বাজার ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে, তাই এই ইটিএফগুলোর ব্যান্ড কোনো ঊর্ধ্বসীমা ছাড়াই ৩ শতাংশ ধাপে প্রসারিত হতে পারবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার পূর্ণ সুবিধা পাবেন। এছাড়া শেয়ারের মতোই সোনা-রুপার ইটিএফ-এ এখন থেকে দৈনিক প্রি-ওপেন কল অকশন চালু হয়েছে।
ওভারনাইট ও লিকুইড ইটিএফ: এই ধরণের ফান্ডে মূল্য খুব কম ওঠানামা করায় নির্দিষ্ট ব্যান্ড ৫ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।
যা যা অপরিবর্তিত থাকছে
এই সমস্ত বড় পরিবর্তন সত্ত্বেও কিছু বিষয় আগের মতোই বহাল থাকছে। ইটিএফ-এর মূল্য এখনও তাদের NAV-এর তুলনায় ডিসকাউন্ট বা প্রিমিয়ামে লেনদেন হতে পারে, যা বাজারের তারল্য এবং চাহিদা-সরবরাহের ওপর নির্ভর করবে। তাই বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত তাদের iNAV পরীক্ষা করা এবং লেনদেন করার সময় লিমিট অর্ডার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ইটিএফ সংক্রান্ত কর, খরচ এবং রিটার্ন গণনার নিয়মে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি।