মানসিক অবসাদের জের? পেটের ভেতর লুকানো ছিল আস্ত মোমবাতি থেকে ১৪টি কলম! অবিশ্বাস্য ঘটনার সাক্ষী অন্ধ্রপ্রদেশ

অন্ধ্রপ্রদেশের পালনাডু জেলার নরসারাওপেট থেকে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও অবিশ্বাস্য ঘটনা সামনে এসেছে। বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক ৩৩ বছর বয়সি মহিলার পেট থেকে অপারেশন করে ১৪টি কলম, ৫টি কাঠের চামচ এবং একটি মোমবাতি উদ্ধার করেছেন চিকিৎসকরা। ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে এই সমস্ত কঠিন ও অস্বাভাবিক বস্তু নিরাপদে বের করে আনা হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় হতবাক হয়ে গেছেন খোদ চিকিৎসকমহলও।

হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, পেটলুরুভারিপালেনি মণ্ডলের ওই বিবাহিত মহিলা বেশ কিছুদিন ধরে বুকে তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন। গত শনিবার ব্যথা অসহ্য হয়ে উঠলে পরিবারের লোকজন তাঁকে নরসারাওপেটের মাতাশ্রী হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা সেখানে তাঁর বিভিন্ন ধরনের শারীরিক পরীক্ষা ও স্ক্যান করার পরই পেটের ভেতরে বেশ কিছু অস্বাভাবিক বস্তুর উপস্থিতি টের পান।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে চিকিৎসকদের একটি দল ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি করার সিদ্ধান্ত নেন। পেট না কেটে সামান্য ছোট ছিদ্রের মাধ্যমেই সফল অস্ত্রোপচার চালিয়ে রোগীর পেট থেকে ১৪টি কলম, ৫টি কাঠের চামচ এবং ১টি মোমবাতি বের করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, ওই কলমগুলির মধ্যে একটির ঢাকনা না থাকায় সেটি পেটের ভেতরে বিঁধে গিয়েছিল, যার ফলেই অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। মানুষের পক্ষে একসঙ্গে এতগুলি কঠিন বস্তু গিলে ফেলা অত্যন্ত বিরল ও অস্বাভাবিক একটি ঘটনা বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

দশ বছর ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন রোগী

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে এক মর্মান্তিক পারিবারিক ও মানসিক পটভূমি। নির্যাতিতার বাবা নোমুলা হনুমন্ত রাও জানিয়েছেন যে, তাঁর মেয়ে গত প্রায় ১০ বছর ধরে গুরুতর মানসিক রোগে ভুগছেন। এই অসুস্থতার কারণে তাঁর আচরণে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছিল। এর পাশাপাশি পারিবারিক নানা অশান্তি ও মানসিক অবসাদের জেরে প্রায় দুই মাস আগেই তাঁর স্বামী তাঁকে তালাক দেন বলে জানা গিয়েছে।

বর্তমানে অস্ত্রোপচারের পর ওই মহিলা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। তবে চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র শারীরিক চিকিৎসা নয়, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে ওই মহিলার জরুরি ভিত্তিতে একজন অভিজ্ঞ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান এবং নিয়মিত কাউন্সেলিং অত্যন্ত প্রয়োজন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *