মাঝ আকাশে বিকল ইঞ্জিন! ৩৬ হাজার ফুট উঁচুতে বুক কেঁপে ওঠা বিপদের মুখ থেকে কীভাবে ফিরল বিমান?

৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় মাঝ আকাশে বড়সর বিপদের মুখে পড়ল এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমান। কোচি থেকে আবু ধাবিগামী ফ্লাইট IX 415 বিমানটি আকাশে ওড়ার প্রায় ৫০ মিনিট পর ফের জরুরি ভিত্তিতে কোচিতেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়। বিমানে থাকা ক্রু মেম্বাররা মাঝ আকাশে লক্ষ্য করেন যে, বিমানটির এক নম্বর ইঞ্জিন থেকে তেল লিক করছে এবং তেলের স্তর দ্রুত কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় চরম সাহসিকতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে শেষ পর্যন্ত বিমানটিকে নিরাপদে মাটিতে নামিয়ে আনেন পাইলট।

মাঝ আকাশে বিপদের সূত্রপাত যেভাবে

কোচির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পর বোয়িং ৭৩৭ মডেলের ওই বিমানটি যখন নির্ধারিত উচ্চতায় পৌঁছায়, তখনই ককপিটে ত্রুটির ইঙ্গিত মেলে। ক্রু মেম্বাররা দেখতে পান যে, ইঞ্জিন ১-এর তেলের প্রেসার বা চাপ হু হু করে কমছে এবং তা বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে তৎক্ষণাৎ ওই ইঞ্জিনটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সেই মুহূর্তে বিমানটি প্রায় ৩৬ হাজার ফুট উঁচুতে উড়ছিল। পরিস্থিতি বুঝে পাইলট অবিলম্বে আবু ধাবি যাত্রা বাতিল করে বিমানটিকে পুনরায় কোচি বিমানবন্দরে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর কমান্ডার দ্রুত হাই ফ্রিকোয়েন্সিতে মুম্বাই রেডিয়োতে যোগাযোগ করেন এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC)-কে পুরো বিষয়টি জানিয়ে কোচিতে জরুরি অবতরণের অনুমতি চান। সমস্ত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিধি ও প্রোটোকল মেনে বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করা হয়। পাইলট জানিয়েছেন, রুট বদলানোর ওই সংকটজনক সময়ে তাঁরা দুজন পাইলটই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ইঞ্জিনের প্রতিটি প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত রেখেছিলেন।

নিরাপদ অবতরণ ও বড় বিপর্যয় এড়ানো

সমস্ত উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে বিমানটি শেষ পর্যন্ত কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়। বিমানটি মাটিতে ফিরে আসার প্রায় ৪৫ মিনিট পর ১ নম্বর ইঞ্জিনের তেলের চাপ ফের ওঠানামা শুরু করে এবং ককপিটের গেজে তা সোজা লাল সীমানায় চলে যায়, যা নিশ্চিতভাবেই এক ভয়াবহ বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি ভারী ও বড় বোয়িং ৭৩৭ বিমানকে মাত্র একটি সচল ইঞ্জিনের ভরসায় সফলভাবে অবতরণ করানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাহসিকতার কাজ। তবে সৌভাগ্যবশত, বিমানে থাকা সাধারণ যাত্রীরা সে সময় এই ঘটনার মারাত্মক ও ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল ছিলেন না, যার ফলে বড়সড় কোনো প্রাণহানি বা বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *