দেশ ছাড়লেই কি বন্ধ হবে প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো পেনশন অ্যাকাউন্ট? নিয়মে বড় বদল আনল কেন্দ্র!

আপনি কি কর্মসূত্রে বা অন্য কোনো কারণে বিদেশে পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেছেন এবং প্রবাসী ভারতীয় বা এনআরআই (NRI) হয়ে গেছেন? আপনার মনেও কি প্রশ্ন জাগছে যে, বিদেশে চলে গেলে দেশে থাকা আপনার ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা এনপিএস (NPS) অ্যাকাউন্টটি কি আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যাবে? এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (PFRDA) বা পিএফআরডিএ-র পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক ঘোষণা করা হয়েছে।
পেনশন নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্পষ্ট বার্তা, কোনো ভারতীয় নাগরিক বিদেশে চলে গিয়ে এনআরআই হয়ে গেলেও তাঁর বিদ্যমান এনপিএস অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় না। অর্থাৎ, বিদেশে থেকেও ভারতীয় নাগরিকরা এনপিএস-এ তাঁদের বিনিয়োগ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী, এনআরআই এবং ওসিআই (OCI – Overseas Citizens of India) কার্ডধারীরা এনপিএস-এর ‘টায়ার ১’ (Tier I) অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে ও পরিচালনা করতে পারেন। তবে তাঁরা নতুন করে কোনো ‘টায়ার ২’ (Tier II) অ্যাকাউন্ট খুলতে বা সক্রিয় করতে পারবেন না। যেহেতু এনপিএস একটি অত্যন্ত নমনীয় ও পোর্টেবল পেনশন ব্যবস্থা, তাই কর্মসংস্থান বা ভৌগোলিক অবস্থান বদলালেও এই অ্যাকাউন্ট ধরে রাখা সম্ভব।
এনআরআই সাবস্ক্রাইবারদের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও নিয়ম
বিদেশ থেকে যাঁরা এনপিএস অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে চান, তাঁদের নির্দিষ্ট কিছু ব্যাঙ্কিং নিয়ম মানতে হয়। অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে এনআরআই সাবস্ক্রাইবারদের অবশ্যই একটি বৈধ এনআরই (NRE) অথবা এনআরও (NRO) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। ওিসিআই কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও একই রকম ব্যাঙ্কিং কমপ্লায়েন্স বা নিয়ম প্রযোজ্য। এই নির্দিষ্ট চ্যানেলগুলির মাধ্যমেই প্রবাসীরা নিয়মিত এনপিএস অ্যাকাউন্টে তাঁদের অবদান বা টাকা জমা করতে পারেন। এই জমানো টাকা প্রবাসীর নির্বাচিত পেনশন ফান্ড এবং অ্যাসেট অ্যালোকেশন অনুযায়ী বিনিয়োগ করা হয় এবং সেন্ট্রাল রেকর্ডকিপিং এজেন্সির মাধ্যমে তার সমস্ত হিসাব সুরক্ষিত থাকে।
টায়ার ১ এবং টায়ার ২ অ্যাকাউন্টের পার্থক্য
পিএফআরডিএ-র বর্তমান নিয়ম অনুসারে, এনআরআইরা শুধুমাত্র বাধ্যতামূলক ‘টায়ার ১’ অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারলেও ‘টায়ার ২’ অ্যাকাউন্ট চালাতে পারেন না।
টায়ার ১ অ্যাকাউন্ট: এটি এনপিএস-এর প্রধান এবং বাধ্যতামূলক রিটায়ারমেন্ট বা অবসরকালীন সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট। সাধারণত গ্রাহকের বয়স ৬০ বছর হলে এই অ্যাকাউন্টটি সমাপ্ত হয়।
টায়ার ২ অ্যাকাউন্ট: এটি একটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক এবং স্বেচ্ছাধীন সঞ্চয় অ্যাকাউন্ট, যা খোলার জন্য টায়ার ১ অ্যাকাউন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। এই অ্যাকাউন্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এখানে কোনো নির্দিষ্ট লক-ইন পিরিয়ড থাকে না এবং গ্রাহক যে কোনো সময়ে ইচ্ছেমতো টাকা তুলতে পারেন।
কোথায় এবং কীভাবে হয় বিনিয়োগ?
এনপিএস-এ বিনিয়োগকারীদের জন্য ইক্যুইটি (শেয়ার বাজার), করপোরেট বন্ড এবং সরকারি সিকিউরিটির মতো বিভিন্ন অ্যাসেট ক্লাসে টাকা বিনিয়োগের সুযোগ থাকে। বিনিয়োগকারীরা দুটি উপায়ে তাঁদের টাকা খাটানোর সুযোগ পান:
১. অ্যাক্টিভ চয়েস মোড (Active Choice): এই পদ্ধতিতে সাবস্ক্রাইবার নিজেই সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁর জমানো টাকা কোন কোন অ্যাসেট ক্লাসে কী অনুপাতে বিনিয়োগ করা হবে। সাধারণ স্কিমগুলিতে ইক্যুইটিতে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকে।
২. অটো চয়েস মোড (Auto Choice): এই পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীর বয়স এবং লাইফ-সাইকেল স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকার বিন্যাস নির্ধারিত হয়। এছাড়া একজন গ্রাহক প্রতি অর্থবর্ষে একবার তাঁদের পেনশন ফান্ড এবং চারবার বিনিয়োগের বিকল্প বা চয়েস বদলানোর সুযোগ পান।
ভারতীয় নাগরিকত্ব ছেড়ে দিলে কী হবে?
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায় যদি কোনো এনপিএস সাবস্ক্রাইবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন এবং তাঁর কাছে ওিসিআই (OCI) কার্ডটিও না থাকে। এই ধরনের বিশেষ ক্ষেত্রগুলির জন্য পিএফআরডিএ গত বছরের এপ্রিল মাসেই একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছিল, যেখানে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা এবং জমানো কর্পাস বা তহবিল নিষ্পত্তির সুস্পষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, যতদিন একজন ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিকত্ব বজায় রেখে বিদেশে বসবাস করছেন, ততদিন তিনি অনায়াসেই নিয়ম মেনে এনপিএস অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে পারেন। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট এনআরই/এনআরও ব্যাঙ্কিং নিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক।