“ইরানের ম্যাপে নিজের মুখ!”-এক ঘণ্টায় ৭ টি বিস্ফোরক পোস্টে তেহরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সংঘাতে নতুন করে চরম উত্তেজনা তৈরি হলো। ইরানের ওপর আমেরিকা ঠিক কী ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে, তা স্পষ্ট করতেই এক ঘণ্টার ব্যবধানে নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে পরপর সাতটি ছবি ও গ্রাফিক পোস্ট করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পোস্টগুলির মাধ্যমে তেহরানকে কার্যত কোনঠাসা ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের এই ধারাবাহিক পোস্টগুলির মধ্যে প্রথমটিতে ইরানের মানচিত্রের উপর তাঁর নিজের মুখের ছবি বসিয়ে প্রতীকী বার্তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেট’ করার যে প্রস্তাব তিনি দিয়েছিলেন, এই পোস্টগুলি তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পোস্টে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের পরিসংখ্যান এবং ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি তলানিতে ঠেকে যাওয়ার দাবি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, মার্কিন নৌ অবরোধের ফলেই ২০২৬ সালে ইরানের তেল রপ্তানি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। চতুর্থ ও পঞ্চম পোস্টে ইরানি মুদ্রার চরম পতনের ছবি তুলে ধরে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকেই এর জন্য দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় ছিল ষষ্ঠ পোস্টটি। এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি গ্রাফিক পোস্ট করে ট্রাম্প সেখানে ‘বাই বাই খার্গ’ কথাটি লিখেছেন, যেখানে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে বিস্ফোরণ ও হামলার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সপ্তম তথা শেষ পোস্টে ইরানকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে তোপ দেগেছেন তিনি। সব মিলিয়ে তেল রপ্তানি হ্রাস, মুদ্রার দরপতন এবং জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার হুমকির মাধ্যমে ট্রাম্প চারদিক থেকেই তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন।

এদিকে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে দেশের অর্থনীতির ওপর যে প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে ইরান। তবে ওয়াশিংটনের চাপের মুখে তেহরান নিজেদের স্বাধীন নীতি বা অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ জানিয়েছেন, কঠিন অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমেই বর্তমান সংকট মোকাবিলা করবে তাঁদের সরকার। ওয়াশিংটন যে ইরানের সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সেই ধারণাও সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *