বেড নেই, মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা! বাঁকুড়ার এই সরকারি হাসপাতালের করুণ ছবি দেখে কী করলেন বিধায়ক?

কেউ বসে রয়েছেন মাটিতে, আবার কেউ বা চাটাই পেতে শুয়ে আছেন ওয়ার্ডের মেঝেতে। কারণ একটাই—সরকারি হাসপাতালে মিলছে না পর্যাপ্ত বেড! আর সাধারণ মানুষের এই চরম দুর্দশার ছবি এবার নিজের চোখে দেখলেন স্থানীয় বিধায়ক। রাতের বেলা আচমকা সরকারি হাসপাতালে হানা দিয়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার বেহাল চিত্রটি খতিয়ে দেখলেন তিনি। বেডের অভাবে বহু রোগীকে মেঝেতে শুয়ে থাকতে দেখে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে বিশেষ আর্জি জানিয়েছেন বিধায়ক।

ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য এই হাসপাতালের উপর শুধু ইন্দাস বিধানসভাই নয়, পার্শ্ববর্তী কোতুলপুর এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ বিধানসভার একাংশের মানুষও সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল। কিন্তু এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিকাঠামোগত সমস্যা যে দীর্ঘদিনের, তা ফের একবার প্রকাশ্যে এল। হাসপাতালের বেহাল পরিকাঠামো এবং রাতের চিকিৎসা পরিষেবা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রবিবার মাঝরাতেই আচমকা সেখানে হাজির হন স্থানীয় বিধায়ক নির্মল কুমার ধাড়া। হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তিনি চিকিৎসার প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন।

পরিদর্শন শেষে বিধায়ক জানান, চিকিৎসার মান বা পরিষেবায় বড় কোনো খামতি না থাকলেও হাসপাতালটিতে বেডের তীব্র অভাব রয়েছে। যার জেরে বহু রোগীকে বাধ্য হয়ে মেঝেতে শুয়েই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য হাসপাতালটিকে উচ্চপর্যায়ে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিধায়ক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “অনেক রোগী বেড পায়নি, কারণ এখানে বেডের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। আমি এই সমস্ত বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছি। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রচুর মানুষ চিকিৎসা করাতে আসেন, তাই আগামী দিনে এই হাসপাতালটিকে গ্রামীণ হাসপাতাল কিংবা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *