বৃষ্টির ফোঁটা পড়তেই তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ল বহুতল! ৩০ বছরের পুরোনো ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে বহু প্রাণ

বিপদ যেন আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল। সামান্য বৃষ্টি নামতেই তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি বেআইনি বহুতল। রবিবার দুপুরে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনও পর্যন্ত অন্তত কুড়ি থেকে পঁচিশ জনের আটকে থাকার আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকারীরা।
স্থানীয় প্রশাসন ও দিল্লি পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভেঙে পড়া বহুতলটি প্রায় ত্রিশ বছরের পুরোনো। এই ভবনটিকে বহুদিন আগেই অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং বাড়িটি ফাঁকা করে দেওয়ার নোটিসও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাড়িটি খালি করা হয়নি। উল্টে সেখানে পেয়িং গেস্ট বা পিজি হিসেবে একাধিক বর্হিগতদের রাখা হয়েছিল এবং আইনকে তোয়াক্কা না করে একের পর এক বেআইনি নির্মাণও চালিয়ে যাওয়া হয়।
পুরসভার প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পি-১৪ নম্বরের সত্য নিকেতনের এই ভবনটি মাত্র পঞ্চান্ন স্কোয়ার ইয়ার্ড জমির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। নব্বইয়ের দশকে তৈরি এই ভবনটিতে কেবল ‘গ্রাউন্ড প্লাস ওয়ান’ অর্থাৎ এক তলার অনুমতি থাকলেও সেখানে বেআইনিভাবে পাঁচতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকেই বেপরোয়া বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, এই উদ্ধারকার্য চালাতে গিয়ে আরও এক নতুন বিপদের কালো মেঘ দেখছেন উদ্ধারকারী দল। ভেঙে পড়া বহুতলটির ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি পাঁচতলা ভবন নিয়েও চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, পাশের ওই বহুতলটিও দুটি ছোট দোকানকে জোড়া লাগিয়ে তার ওপর ভিত ছাড়াই পাঁচতলা পর্যন্ত তুলে ফেলা হয়েছিল। ভবনটি ধরে রাখার মতো কোনো শক্তপোক্ত পিলার বা সঠিক ভিত সেখানে নেই বললেই চলে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই পৌরনিগমের পক্ষ থেকে অত্যন্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপে সংলগ্ন ওই বিপজ্জনক ভবনটিকেও দ্রুত খালি করিয়ে সিল করে দেওয়া হয়েছে। তবে উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ভেঙে পড়া বহুতলের টনটনে ধ্বংসস্তূপ সরাতে গেলে যেকোনো মুহূর্তে পাশের দুর্বল ভবনটিও মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়তে পারে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বর্তমানে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর জওয়ানরা।