মাত্র ৮ ঘণ্টা কাছে থাকতে ১৪ ঘণ্টা জার্নি! বাবা মানেই নিঃশব্দ ভালোবাসা, ভাইরাল এই আবেগঘন কাহিনি আপনাকেও কাঁদাবে

মুখে ভালোবাসার কথা হয়তো সবসময় প্রকাশ করতে পারেন না বাবা মায়েরা, কিন্তু তাঁদের নিঃশব্দ উপস্থিতি ও কাজই বুঝিয়ে দেয় সন্তানের প্রতি তাঁদের অন্ধ ভালোবাসা। সম্প্রতি এমনই এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী রইল নেটদুনিয়া, যা প্রতিটি দূরপাল্লার ছাত্রছাত্রী বা কর্মব্যস্ত তরুণ-তরুণীর চোখ ভিজিয়ে দিতে বাধ্য।

ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল @apple.kaivalya-এর এক তরুণী সম্প্রতি শেয়ার করেছেন এমন এক গল্প, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। তরুণী জানান, গত রাতে তিনি তাঁর বাবাকে স্রেফ একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন—তিনি বাবাকে মিস করছেন। কথাটি যে এত গভীরভাবে বাবা গায়ে মাখবেন, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি ওই তরুণী।

পরের দিন সকালেই চমক! দরজায় কড়া নাড়তেই তরুণী দেখেন, পিঠে ব্যাকপ্যাক ঝুলিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে স্বয়ং তাঁর বাবা।

২৮ ঘণ্টার ক্লান্তি নিমেষে উধাও

জানা গেছে, মেয়েকে একবার দেখার জন্য মোট ১৪ ঘণ্টা জার্নি করে মেয়ের কাছে পৌঁছান ওই বাবা। সেখানে কাটান মাত্র ৮টি মূল্যবান ঘণ্টা। এরপর আবার সেই ১৪ ঘণ্টার ক্লান্তিকর পথ পাড়ি দিয়ে নিজের কর্মস্থলে ফিরে যান তিনি।

ছুটির দিনেও কাজের ব্যস্ততা ছিল তাঁর। মেয়ের কাছে এসেও কাজের কল সামলেছেন তিনি। তবে এর মাঝেই মেয়ের মন ভালো রাখতে কোনো ত্রুটি রাখেননি। মেয়ের ঘর পরিষ্কার করা, তাঁকে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া, পছন্দের খাবার কিনে দেওয়া—সব মিলিয়ে সেই কয়েকটি ঘণ্টাকে স্পেশাল করে তুলেছিলেন তিনি। যাওয়ার সময় মেয়েকে শুধু বলে যান, “সবসময় হাসিখুশি থেকো, জেনো আমি সবসময় তোমার পাশে আছি।”

নেটিজেনদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

তরুণী জানান, তিনি বাবাকে আসার জন্য একটুও জোরাজুরি করেননি। কিন্তু বাবার এই অক্লান্ত পরিশ্রম বুঝিয়ে দিল যে, শত দূরত্বের মাঝেও সন্তান কখনো একা নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই তা লাখ লাখ মানুষের মন জয় করেছে। অনেকেই কমেন্ট বক্সে নিজেদের বাবাদের কথা স্মরণ করেছেন। এক নেটিজেন তাঁর কলেজ জীবনের কঠিন দিনের কথা মনে করে লেখেন, সুদূর কুয়েত থেকে তাঁর বাবা একইভাবে ছুটে এসেছিলেন তাঁর কঠিন সময়ে।

দিনের শেষে এই ঘটনা যেন ফের প্রমাণ করল—কথায় নয়, কাজের মাধ্যমেই বাবাদের ভালোবাসা সবচেয়ে নিখাদ ও গভীর হয়ে প্রকাশ পায়।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *