“কেন মূর্তি পুজো বিরোধীরা অংশ নেবে?”-নবরাত্রির উৎসব থেকে মুসলিমদের দূরে থাকার নির্দেশ

আসন্ন নবরাত্রি উৎসবকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই দুর্গোৎসবের অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত গার্বা ও ডান্ডিয়া ইভেন্টগুলি থেকে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে বরিষ্ঠ হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)। শুধু তাই নয়, উৎসবে আগত কোনো ব্যক্তি যাতে ভুয়ো পরিচয়ে প্রবেশ করতে না পারেন, সেজন্য প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে আধার কার্ড পরীক্ষা করার কঠোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ এই চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ করেছে। চলতি বছরে আগামী ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় উৎসব নবরাত্রি।

কী দাবি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের?

ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ আয়োজকদের জোরালো নির্দেশ দিয়েছে যে, উৎসবে যোগ দিতে আসা প্রতিটি মানুষের আধার কার্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। এর পাশাপাশি, মণ্ডপে প্রবেশের মুখে তাঁদের কপালে আবশ্যিকভাবে তিলক কেটে দিতে হবে।

সংগঠনের জয়েন্ট সেক্রেটারি শ্রীরাজ নাইর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গার্বা ও ডান্ডিয়া ইভেন্টগুলিতে কোনো মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। এই উৎসবের সঙ্গে মুসলিমদের কোনো প্রকার ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক সংশ্লিষ্টতা নেই বলেই দাবি তাঁর। শ্রীরাজ নাইরের বক্তব্য, নবরাত্রি নিছক কোনো বিনোদনমূলক নাচ বা গানের আসর নয়, এটি দেবী আরাধনা ও পুজো করার পবিত্র উৎসব। তাঁর প্রশ্ন, “যারা মূর্তিপূজার ঘোর বিরোধী, তারা কেন এই ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেবে?”

“সিদ্ধান্ত ঐতিহ্য রক্ষার, বিরোধিতার নয়”

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই ফতোয়া নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক দানা বাঁধলেও সংগঠনের দাবি, এই সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে নয়। বরং এটি সম্পূর্ণরূপে হিন্দু ধর্মের নিজস্ব ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষা করার একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ। উৎসবের মরশুমে এই কড়া নির্দেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আয়োজকরা কীভাবে এই নির্দেশিকা মেনে চলেন এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *