‘পালিয়ে যেতে পারো, কিন্তু লুকিয়ে বাঁচতে পারবে না!’ বুদগামে পাকিস্তানি জঙ্গি খতম হতেই উপত্যকার জঙ্গিদের চরম হুঁশিয়ারি পুলিশের

জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগামে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র এনকাউন্টারে খতম হল এক পাকিস্তানি জঙ্গি। নিহত সন্ত্রাসীর নাম ইয়াসির, যাকে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সক্রিয় সদস্য বলে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এই বড় সাফল্যের পরপরই উপত্যকায় আত্মগোপন করে থাকা বাকি জঙ্গিদের উদ্দেশে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, “পালিয়ে যেতে পারলেও লুকিয়ে থাকা সম্ভব নয়!”

কীভাবে চলল ‘অপারেশন আশদার’?

বুদগাম জেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল ইউসমার্গ এবং পীরপাঞ্জাল পর্বতমালায় সন্ত্রাসবাদীদের আত্মগোপন করার গোপন খবর ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে। সেই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ (CRPF)-এর যৌথ দল পরিচালনা করে ‘অপারেশন আশদার’। পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক আধিকারিক জানান, ওই দুর্গম এলাকায় অন্তত দুজন বিদেশি সন্ত্রাসী লুকিয়ে ছিল। সতর্ক বাহিনী সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে চ্যালেঞ্জ জানালে জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে। এর জবাবে পাল্টা গুলিবর্ষণে এক জঙ্গি নিহত হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-ফোরটি সেভেন (AK-47) রাইফেল উদ্ধার করা হয়। শ্রীনগর-ভিত্তিক সেনার চিনার কর্পস জানিয়েছে, ওই এলাকায় এখনও চিরুনি তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।

নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি ও ডিজিপির পরিযান

পীর পাঞ্জাল পর্বতমালার গভীর জঙ্গলে শক্ত ঘাঁটি তৈরি করা এবং জঙ্গল যুদ্ধে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে পুলিশ প্রশাসন বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করেছে। সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশ ডিজিপি নলিন প্রভাত নিজে ওই এলাকা পরিদর্শন করেন। উচ্চ-উচ্চতার এই বিশেষ বনাঞ্চল যুদ্ধের ইউনিটগুলি যেভাবে তাদের অভিযান পরিচালনা করছে, তিনি তার পুরো বিষয়টি সরজমিনে খতিয়ে দেখেছেন। উপত্যকা থেকে সন্ত্রাসবাদের শেকড় উপড়ে ফেলতে নিরাপত্তা বাহিনী এখন আরও অনেক বেশি আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *