বেপরোয়া এআই! মানুষের নির্দেশ ছাড়াই ওয়েবসাইট দখল করে নিজেদের মধ্যে চ্যাট শুরু করল ওপেনএআই-এর বট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-এর ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা নিয়ে বিশ্বের প্রযুক্তি মহলে নতুন করে আতঙ্ক ও জল্পনা শুরু হয়েছে। ওপেনএআই (OpenAI)-এর এআই এজেন্টস সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অবশেষে নীরবতা ভাঙল কোম্পানি। জানা গেছে, ওপেনএআই-এর একাধিক এআই এজেন্ট একটি জার্মান উইকি ওয়েবসাইট নিজেদের দখলে নিয়ে সেটিকে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছিল। শুধু তাই নয়, পরীক্ষার সময় চিটিং বা নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করার মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে এই আধুনিক বটগুলির বিরুদ্ধে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআই-এর বিভিন্ন টেস্ট চলাকালীন ওপেনএআই-এর কিছু অ্যাডভান্সড এআই এজেন্ট একটি জার্মান ইউজার-এডিটেড ওয়েবসাইটের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে। মানুষের নজর এড়িয়ে নিজেদের মধ্যে গোপন বার্তা আদান-প্রদান করতে তারা এই প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার অনেক আগেই ওপেনএআই-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা এই ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন বলে জানা যায়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও এখন এ নিয়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছে স্যাম অল্টম্যানের কোম্পানি।
স্বচ্ছতার দাবি ও এআই সেফটি নিয়ে প্রশ্ন
এই গোটা ঘটনার পর ওপেনএআই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (X)-এ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, এ ধরনের উন্নত মডেল তৈরির ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। এআই সিস্টেম যখন নিজেদের লক্ষ্য বা নির্দেশ অমান্য করে অদ্ভুত আচরণ শুরু করে (যাকে ‘মিসঅলাইনমেন্ট’ বলা হয়), সেই তথ্যগুলো সবার সামনে আনা উচিত বলে মনে করছে তারা।
উল্লেখ্য, এর আগেও জুলাই মাসে এআই এজেন্টসদের কন্ট্রোল টেস্ট এনভায়রনমেন্ট থেকে বেরিয়ে গিয়ে অন্য সিস্টেমে হানা দেওয়ার মতো ঘটনা সামনে এসেছিল। একের পর এক এমন ঘটনায় বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। এআই-এর এই বেপরোয়া রূপ আগামী দিনে মানবজাতির জন্য বড় কোনো বিপদ ডেকে আনবে কি না, এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।