রাতে পুরসভায় বসে গোপনীয় কাজ! তথ্য লোপাটের অভিযোগে চরম উত্তেজনা, মারধরের জেরে কর্মবিরতি।

সরকারি প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদেই নেমেছিল বিপর্যয়! রাতের অন্ধকারে পুরসভায় বসে ডেটা এন্ট্রির কাজ করার সময় বহিরাগতদের হামলার মুখে পড়লেন সরকারি কর্মীরা। তথ্য লোপাটের ভুয়া অভিযোগ তুলে কর্মীদের মারধর করার পাশাপাশি হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবিতে এবার কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন অশোকনগর-কল্যাণগড় পুরসভার কর্মীরা।
ঠিক কী ঘটেছিল রাতে?
প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আয়ুষ্মান প্রকল্পের ডেটা এন্ট্রির কাজ শেষ করার জন্য পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক অরুণকুমার বিশ্বাসের বিশেষ অনুমতি ও নির্দেশেই শুক্রবার রাতে পুরভবনে কাজ করছিলেন কয়েকজন কর্মী। অভিযোগ, গভীর রাতে হঠাৎই একদল বহিরাগত পুরভবনে ঢুকে পড়ে। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, রাতে কেন পুরসভা খোলা রয়েছে এবং কী কাজ চলছে? এরপরই কর্মীদের বিরুদ্ধে সরকারি তথ্য লোপাট বা মুছে ফেলার চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তোলে তারা।
কর্মীরা সরকারি নির্দেশ ও কাজের বৈধতা বোঝানোর চেষ্টা করলেও তা শোনেনি দুষ্কৃতীরা। উলটে তাঁদের মারধর করা হয় এবং ব্যাগপত্র ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র তছনছ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তার খাতিরে সাত জন কর্মীকে রাতে থানায় নিয়ে যায়।
ক্ষোভে ফুঁসছেন পুরকর্মীরা
শনিবার সকালে নির্বাহী আধিকারিক নিজে থানায় গিয়ে ওই কর্মীদের ছাড়িয়ে আনলেও আসল বিরোধ শুরু হয় তারপরই। পুরকর্মীদের ক্ষোভ, আধিকারিকের নির্দেশ মেনে কাজ করতে গিয়ে তাঁরা আক্রান্ত হলেন, অথচ পুর কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর বা আইনি পদক্ষেপ করা হয়নি কেন? এই প্রশ্ন তুলেই নির্বাহী আধিকারিকের দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন কর্মীরা। যতক্ষণ না দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ এই কর্মবিরতি ও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুংকার দিয়েছেন তাঁরা।