পুরুষতান্ত্রিক সমাজেই মহিলাদের রূপ নিয়ে চলে কাটাছেঁড়া! খোলামেলা আড্ডায় বোমা ফাটাতে চলে এলেন অভিনেত্রী!

মহিলাদের শরীর বা দেখতে কেমন লাগছে, তা নিয়ে সমাজের অতিরিক্ত কৌতূহল এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে এবার সরাসরি মুখ খুললেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রসিকা দুগল। তাঁর স্পষ্ট কথা, মহিলাদের চেহারা বা শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করার আগে মানুষের আরও অনেক বেশি সংবেদনশীল ও সচেতন হওয়া দরকার। জনপ্রিয় সিরিজ ‘মির্জাপুর’-এ বীণা ত্রিপাঠীর চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল প্রশংসিত হওয়া এই অভিনেত্রীর মতে, এই ধরনের বিচারবুদ্ধি আসলে একটি পুরুষতান্ত্রিক সমাজেরই গভীর লক্ষণ।
সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে রসিকা বলেন, “দৈনন্দিন জীবনে আমরা কতবার শুনেছি যে কোনও মহিলার কথা উঠলেই প্রথমে তাঁর চেহারা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যেমন—‘তুমি তো খুব রোগা হয়ে গেছ’ বা ‘আমি কী মোটা হয়ে গেছি’—এইসব কথাই বারবার ঘুরেফিরে আসে। এমনকি সমাজের অঙ্গ হিসেবে অনেক সময় আমরাও অজান্তেই এই ধরনের আলোচনায় জড়িয়ে পড়ি। এই অভ্যাসটা এবার বদলানো দরকার।” মহিলাদের সবসময় পরিপাটি এবং চিরযুবতী থাকার যে অতিরিক্ত সামাজিক চাপ তৈরি করা হয়, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
কীভাবে তৈরি হয় চরিত্রের রূপ? ব্যক্তিগত মতামতের পাশাপাশি সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর জনপ্রিয় চরিত্র ‘মির্জাপুর’-এর প্রসঙ্গও। পুরুষদের আধিপত্যের দুনিয়ায় কীভাবে নিজের জ্ঞান ও সাহসিকতাকে কাজে লাগিয়ে টিকে থাকে বীণা ত্রিপাঠী, তা নিয়ে কথা বলেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানান, পর্দায় চরিত্রটিকে জীবন্ত করে তুলতে সাজসজ্জা বা মেকআপ একটি বড় ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে বীণার বিশেষ চুলের স্টাইল বা উইগ তাঁকে ওই চরিত্রে প্রবেশ করতে সাহায্য করত। প্রসঙ্গত, অতি শীঘ্রই বড় পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’, যেখানে কালিন ভাইয়া, মুন্না ভাইয়া এবং গুড্ডু পণ্ডিতদের সঙ্গে এই শক্তিশালী চরিত্রে আবারও ফিরছেন রসিকা দুগল।