জ্বলে না উনুন, খাওয়া হয় শুধু চিঁড়ে-দহি! শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কেন এভাবেই চলছে এই গ্রামের জন্মাষ্টমী?

ভারতে জন্মাষ্টমী উদযাপনের নানা রূপ দেখা যায়, তবে বিহারের সুপৌল জেলার বসবিট্টি কুঁবর টোলার জন্মাষ্টমী উৎসব সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এখানে শুধু ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও রাধারানি নন, বরং মায়ের ভান্ডারিরূপী মা ভগবতীর প্রতিমাও একসঙ্গে পুজো করা হয়। তবে এই উৎসবকে সবচেয়ে বেশি বিশেষ করে তুলেছে এখানকার একটি শতাব্দীপ্রাচীন এবং অদ্ভুত নিয়ম— প্রতিমা বিসর্জনের দিন পুরো গ্রামে উনুন জ্বলে না!
১০০ বছরের ঐতিহ্য: সুপৌল জেলা সদর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বসবিট্টি কুঁবর টোলায় বহু বছর ধরে অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রায় এক শতাব্দী ধরে এই ঐতিহ্য চলে আসছে। এখানকার মানুষ বংশপরম্পরায় এই ধর্মীয় অনুশাসন নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন।
বিসর্জনের দিন বন্ধ রান্নাবান্না: এই জন্মাষ্টমীর সবচেয়ে বড় ও অনন্য দিক হলো প্রতিমা বিসর্জনের দিনটি। শত বছরের পুরোনো প্রথা মেনে ওই দিন বসবিট্টি এবং এর আশপাশের কোনো বাড়িতেই রান্নাবান্না করা হয় না। অর্থাৎ, উনুন জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। গ্রামের সমস্ত মানুষ সেদিন রান্না করা খাবারের বদলে চিঁড়ে-দহি, ফল এবং অন্যান্য ফলার খেয়ে দিন কাটান। এরপর ভক্তিভরে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জন যাত্রা।
প্রতিমা পাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষা: এই গ্রামের জন্মাষ্টমীতে প্রতিমা তৈরি ও বসানোর সুযোগ পাওয়াটাও অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয় বলে মনে করা হয়। যে সমস্ত গ্রামবাসী নিজেদের বাড়িতে বা উদ্যোগে প্রতিমা বসাতে চান, তাঁদের বহু বছর ধরে সিরিয়ালের অপেক্ষায় থাকতে হয়। চলতি বছরে প্রতিমা নির্মাণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা তথা পেশায় ঠিকাদার বিজয় সিং।
বিসর্জনের দিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগমে ঢাক-ঢোল ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। শতবর্ষের এই প্রাচীন রীতি আজও গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐক্যের এক অনন্য নজির স্থাপন করে চলেছে।