মথুরা-বৃন্দাবন যাতায়াত হবে আরও সহজ! ১২ কিমি পুরোনো রেল ট্র্যাক নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত যোগী সরকারের

উত্তরপ্রদেশের পর্যটন এবং ধর্মীয় পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিল যোগী আদিত্যনাথ সরকার। মথুরা ও বৃন্দাবনের মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ করতে এবার ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ পুরোনো রেল ট্র্যাকের ওপর নতুন সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ব্রজ অঞ্চলের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য চালু হতে চলেছে বিশেষ ‘তীর্থ মিত্র’ প্রকল্প।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উত্তরপ্রদেশ ব্রজ তীর্থ বিকাশ পরিষদের নবম বৈঠকে এই সমস্ত যুগান্তকারী প্রস্তাবগুলিতে অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে ব্রজ অঞ্চলের সার্বিক বিকাশ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্তদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রেলবাস বন্ধ হতেই নতুন পরিকল্পনা: উত্তরপ্রদেশ ব্রজ তীর্থ বিকাশ পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা লক্ষ্মী নাগপ্পন জানান, অতীতে মথুরা ও বৃন্দাবনের মধ্যে রেলবাস পরিষেবা চালু থাকলেও তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রায় ১২ কিমি দীর্ঘ ওই পুরোনো ট্র্যাকের ব্যবহার নিয়ে নতুন এই রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। ওই রেল ট্র্যাকের ওপর পিচ রাস্তা নির্মিত হলে দুই শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুগম হবে এবং সাধারণ মানুষ ও ভক্তরা এর সুফল পাবেন।
সংরক্ষিত হবে ২০০ ঐতিহাসিক धरोहर: সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্রজ অঞ্চলের জির্ণশীর্ণ ও প্রাচীন স্মৃতিচিহ্নগুলো রক্ষা করতে সংস্কৃতি দপ্তরের ‘স্মারক মিত্র’ প্রকল্পের আদলে চালু হচ্ছে ‘তীর্থ মিত্র’ যোজনা। এই প্রকল্পের অধীনে ব্রজের প্রায় ২০০টি চিহ্নিত ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন স্থানকে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে আগামী প্রজন্ম এই সমৃদ্ধশালী ইতিহাস ধরে রাখতে পারে।
বিকাশের জোয়ারে चौरासी कोस পরিক্রমা: বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ৮৪ ক্রোশ পরিক্রমা এলাকার উন্নয়ন কাজ আগামী তিন বছরের মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া পায়ে হেঁটে ভ্রমণকারী তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত মসৃণ করতে রাস্তাঘাটগুলো ঢেলে সাজানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ব্রজের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও সাহিত্য সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবমিলিয়ে, প্রায় ১,০৫১ কোটি টাকার মোট ২২৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্রজ ভূমিকে আধ্যাত্মিক পর্যটনের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।