এভারেস্টে মানুষের এই অভ্যাসই তুষার গলাচ্ছে! চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল নতুন গবেষণা

এভারেস্ট বেস ক্যাম্প নিয়ে নতুন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন গবেষকরা। গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি এবার এভারেস্টের বরফ গলার জন্য মানুষের কার্যকলাপ এবং অতিরিক্ত ভিড়কেও দায়ী করছেন গবেষকরা। ‘রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ’ নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, খুম্বু হিমবাহের (Khumbu Glacier) বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার পেছনে মানুষের তৈরি তাপও একটি বড় কারণ।

যে কারণে গলছে বরফ: গবেষকদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, পাহাড়ে ক্লাইম্বিং সেশনের সময় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং মানব বর্জ্য বা প্রস্রাব থেকে উৎপন্ন তাপ প্রায় ২,৪৯২ টন বরফ ও তুষার গলাতে সাহায্য করতে পারে। ২০২৩ সালের বসন্তকালীন ক্লাইম্বিং মরসুমে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল মাঠ পর্যায়ে গবেষণা চালিয়েছিল। ক্যাম্পের রান্নাবান্না, আলো এবং উত্তাপের জন্য ব্যবহৃত তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG), কেরোসিন এবং পেট্রোলের ব্যবহার বিশ্লেষণ করেই এই তথ্য উঠে এসেছে।

দ্বিগুণ গতিতে বাড়ছে বেস ক্যাম্পের উষ্ণতা: স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত— দীর্ঘ ৩২ বছরের তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা। তাতে দেখা গেছে, এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতি বছর প্রায় ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেস ক্যাম্পের এই উষ্ণতা বৃদ্ধির হার খুম্বু হিমবাহের অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ!

ঝুঁকিতে রয়েছে বেস ক্যাম্প: বর্তমান এভারেস্ট বেস ক্যাম্পটি সরাসরি একটি হিমবাহের ওপর (supraglacial site) অবস্থিত। হিমবাহ গলতে থাকায় এবং এর অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে এই বিশাল অস্থায়ী শিবিরটি পরিচালনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই গবেষকরা হিমবাহের ওপর থেকে বেস ক্যাম্প সরিয়ে অন্য কোনো নিরাপদ ও শক্ত মাটিতে স্থানান্তরের কথা ভাবছেন।

গবেষকদের মতে, হিমবাহ গলানোর মূল কারণ বিশ্ব উষ্ণায়ন হলেও, বেস ক্যাম্পের মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এবং মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপ পরিস্থিতিকে আরও বেশি বিপজ্জনক করে তুলছে। হিমালয়ের এই ভঙ্গুর পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতে পর্যটন ও পর্বতারোহণের পরিকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *