হাইকোর্টে মামলা করার পরেই কোপ! ৭২ বছরের পুরনো তেল মিল সিল হতেই বিস্ফোরক তৃণমূল কাউন্সিলর

জলপাইগুড়ি শহরে ৭২ বছরের পুরনো একটি তেলের মিল সিল করে দিল প্রশাসন। শহরের আইনজীবী তথা সদ্য প্রাক্তন হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর সুব্রত পালের পৈতৃক তেল কল সিল করেছেন সদর মহকুমাশাসক। জলপাইগুড়ি শহরের ৬ নং ওয়ার্ডে ১৯৫৪ সালে স্থাপিত সরষের তেলের এই কারখানা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলত বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, খাদ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ বা FSSAI-এর লাইসেন্সের মেয়াদ দু’দিন আগে উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার অভিযোগে কারখানাটি সিল করা হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তবে এই ঘটনার পেছনে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গন্ধ দেখছে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি অংশ।
ঠিক কী ঘটেছিল জলপাইগুড়িতে?
সম্প্রতি গত ৩০ জুলাই জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী কাউন্সিলররা। আস্থা ভোটের ঠিক কিছুক্ষণ আগেই চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন সৈকত চট্টোপাধ্যায়। কালীঘাট-পন্থী তৃণমূল কাউন্সিলররা চেয়েছিলেন, সৈকতকে সরিয়ে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে। কিন্তু চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দিনই পুর বোর্ড ভেঙে প্রশাসক হিসেবে জলপাইগুড়ির সদর মহকুমাশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন করার কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
হাইকোর্টে মামলার পরেই অভিযান
এভাবে হঠাৎ প্রশাসক বসানোকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন কালীঘাট-পন্থী তৃণমূল কাউন্সিলর সুব্রত পাল। আর ঠিক তার পরেই তাঁর তেল মিলে হানা দেন সদর মহকুমাশাসক। বৃহস্পতিবার রাতে সদর মহকুমাশাসকের নির্দেশমতো পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে তেল মিলটি সম্পূর্ণ সিল করে দেয় প্রশাসন।
সুব্রত পালের মেয়ে শরণ্যা পালের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের FSSAI লাইসেন্সের মেয়াদ গত ৩১ অগস্ট শেষ হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে নবীকরণের জন্য আবেদনও করেছি। কিন্তু এসডিও মিলে আসার পরেই খুব তড়িঘড়ি করে মিল সিল করা হল।” প্রশ্ন উঠছে, তবে কি হাইকোর্টে মামলা করার জন্যই এই মাশুল গুনতে হল সুব্রত পালকে?
সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুব্রত পালের মমতা-পন্থী সহকর্মী উত্তম বোসও একই সুরে প্রশাসনকে আক্রমণ করে বলেন, “মাত্র দু’দিন আগে FSSAI লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সেখানে লাইসেন্স নবীকরণ করে নিতে বললেই হতো। কিন্তু এত উৎসাহিত হয়ে শহরের ঐতিহ্যবাহী ৭২ বছরের পুরনো ঘানির তেলের মিলটি সিল করে দেওয়া হলো! আমরা রাজ্য সরকারের অসাংবিধানিক ভাবে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেছি, সেই কারণেই সুব্রত পালের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ করা হলো।”
প্রশাসনের বক্তব্য ও রাজনৈতিক তরজা
পুরো বিষয়টি নিয়ে সুব্রত পাল জানান, “আমাদের তেল মিলের কাগজপত্র সব ঠিক করে ফের খোলা হবে। তড়িঘড়ি কেন এমনটা করা হলো সেটা বোঝাই যাচ্ছে।”
অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি বুবাই কর এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান। তেল মিলের লাইসেন্সের মেয়াদ নেই এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তেল উৎপাদন হতো, সেই অভিযোগেই মিল সিল করেছে প্রশাসন। রাজ্যে সব জায়গায় অভিযান চলছে। এখানে রাজনীতির কোনও বিষয় নেই।”
জলপাইগুড়ির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট আবু তৈয়ব মণ্ডলও জানান যে, সরকারি নির্দেশেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বৈধ লাইসেন্স না থাকার কারণে তেল মিলটি সিল করা হয়েছে।