আসন্ন এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দলের জন্য কঠোর নিয়ম! খেলোয়াড়দের শেখানো হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির পাঠ

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় শুরু হতে চলেছে মর্যাদাপূর্ণ এশিয়ান গেমস ২০২৬। এই মেগা টুর্নামেন্টের জন্য এখন থেকেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছে ভারতীয় অ্যাথলেটরা। তবে শুধু শারীরিক বা কৌশলগত অনুশীলন নয়, এর পাশাপাশি কন্টিনজেন্টের সব অ্যাথলেট এবং সাপোর্ট স্টাফদের জন্য এবার রাখা হয়েছে একটি বিশেষ নৈতিক পাঠ— যার মূল উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক সহানুভূতি, সম্মান এবং মানসিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
৭৬৮ সদস্যের বিশাল কন্টিনজেন্ট ও কোড অফ কন্ডাক্ট
আসন্ন এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতের পক্ষ থেকে মোট ৭৬৮ জনের একটি বিশাল দল জাপান যাচ্ছে, যার মধ্যে ৫০৩ জন অ্যাথলেট এবং ২৪৬ জন সাপোর্ট স্টাফ রয়েছেন। গেমস শুরু হওয়ার আগেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে কন্টিনজেন্টের নির্দিষ্ট ‘কোড অফ কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধি। যেখানে টুর্নামেন্টের সময় কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়, তার সুস্পষ্ট নির্দেশিকা থাকবে।
বিশেষ বিষয় হলো, এই প্রথমবার ভারতীয় কন্টিনজেন্টের সঙ্গে একজন ডেডিকেটেড ‘সেফগার্ডিং অফিসার’ (Safeguarding Officer) ভ্রমণ করবেন, যাতে কোনো খেলোয়াড় বা সদস্য কোনোভাবেই উপেক্ষিত বোধ না করেন।
সেফগার্ডিং অফিসার নিয়োগের নেপথ্যে কী কারণ?
কন্টিনজেন্টের সেফগার্ডিং অফিসার নীতাল নারং এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বড় কোনো টুর্নামেন্টে অনেক সময় টিম মেম্বাররা প্রভাবশালী বা শক্তিশালী কারোর ভিড়ে দলের অন্য কোনো কোণঠাসা সদস্যকে অবহেলা করে ফেলেন। এই মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে একাধিক আউটরিচ প্রোগ্রাম ও অনলাইন সেশনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
-
কাউন্সেলিং ও হটলাইন: খেলোয়াড়রা যাতে কোনো রকম মানসিক চাপে না পড়েন, তার জন্য একটি গোপন ইমেল আইডি ও হটলাইন নম্বর থাকবে। কেউ কোনো সমস্যায় পড়লে সরাসরি অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
-
কঠোর পদক্ষেপ: অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অ্যাক্রিডিটেশন বা সুযোগ পর্যন্ত বাতিল করা হতে পারে।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) আদর্শ মেনে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো— একটি নিরাপদ ও চাপমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে খেলোয়াড়রা অন্য কোনো মানসিক চাপ না নিয়ে শুধুমাত্র নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সে ফোকাস করতে পারেন।