‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্কে উত্তাল পাহাড়! কংগ্রেসের তোপের মুখে পড়ে উত্তরাখণ্ডে বিরাট মাস্টারপ্ল্যান বিজেপির

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়گেকে ঘিরে চলা ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্ক ও রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই উত্তরাখণ্ডে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করে দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক চালিকাশক্তি নিজেদের অনুকূলে রাখতে এবার আসরে নামছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে দুদিনের সফরে উত্তরাখণ্ডে পৌঁছাচ্ছেন বিজেপির নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।
কী নিয়ে উত্তপ্ত রাজনীতি? হালद्वानीতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের একটি জনসভার পর সেখানে কথিত ‘শুদ্ধিকরণ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, এই ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত কোনও এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়নি। বিষয়টিকে দলিত সম্মান ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ইস্যু বানিয়ে দেশজুড়ে ও রাজ্যজুড়ে লাগাতার প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। এমনকি মল্লিকার্জুন খাড়গে নিজে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডাকে চিঠি দিয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির পালটা দাবি, বিরোধীরা আসল উন্নয়নের ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতেই এই ধরণের রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করছে। বিজেপির সাফাই, সেখানে কোনও রকম বৈষম্যের বিষয় ছিল না, বরং দলিত সমাজের মানুষেরাই পুজো-পাঠ করেছেন, যা নিয়ে রাজনীতি করা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত।
নীতিন নবীনের সফর ও কৌশল: এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই আগামী ৯ সেপ্টেম্বর থেকে উত্তরাখণ্ডে পা রাখবেন বিজেপি নেতা নীতিন নবীন। প্রথম দিনই হালद्वानीতে আয়োজিত দলের প্রদেশ কোরের কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। সেখানে বুথ স্তরের ব্যবস্থাপনা এবং আসন্ন নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর রুদ্রপুরে পৌঁছে প্রাক্তন সৈনিকদের একটি বিশেষ জনসভা এবং শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জনসংযোগে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তরাখণ্ডে প্রায় ১৮.৯ শতাংশ তফসিলি জাতি (SC) এবং প্রায় ১৪ শতাংশ সংখ্যালঘু ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ভোটার মিলিয়ে মোট ৩৩ শতাংশের একটি বড় সামাজিক সমীকরণ রয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে বিজেপি প্রায় ৪৪.৩% এবং কংগ্রেস ৩৭.৯% ভোট পেয়েছিল, সেখানে উভয় শিবিরের ভোটের ব্যবধান ছিল মোটে ৬.৪ শতাংশ। তাই আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেবল ‘শুদ্ধিকরণ’ বিতর্ক নয়, বরং এই শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্ক নিজেদের দিকে টানাই এখন সব দলের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।