প্রথম টেস্টে কি পাশ করবে গগনযান? মহাকাশে মানুষ পাঠানোর আগে বিরাট ছক কষল ইসরো

ভারতের মহাকাশ গবেষণার মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে আরও এক নতুন পালক। মহাকাশে মানুষ পাঠানোর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত গগনযান মিশনের প্রথম মনুষ্যহীন অভিযান হতে চলেছে চলতি বছরেই। সম্প্রতি শ্রীহরিকোটায় সফলভাবে জিএসএলভি-এফ১৭ এবং ইওএস-০৫ উপগ্রহের উৎক্ষেপণের পর এই খবর নিশ্চিত করেছেন ইসরো চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন। তিনি জানিয়েছেন, গগনযান মিশনের প্রস্তুতির কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। তবে মানুষের প্রাণ ঝুঁকির মুখে ফেলার আগে এই প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ানে কোনো মহাকাশচারী থাকছেন না। মানুষের বদলে রকেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার নিখুঁত পরীক্ষা করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
চূড়ান্ত ধাপে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতীয় মহাকাশচারীদের পৃথিবী থেকে প্রায় চারশো কিলোমিটার উঁচুতে মহাকাশে পাঠানো হবে এবং নির্দিষ্ট সময় পর তাঁদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে। তবে সেই মহাযজ্ঞের আগে একাধিক ধাপের কঠোর পরীক্ষামূলক মহড়া সারতে চাইছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। বিজ্ঞানীদের মতে, মহাকাশে মানুষ পাঠানোর মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের আগে সমস্ত যন্ত্রাংশ এবং প্রযুক্তি ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। তাই এই প্রথম মনুষ্যবিহীন গগনযান মহাকাশে পাড়ি দেবে, যা মূলত ফাইনাল পরীক্ষার আগের একটি মহড়া। এই অভিযানে রকেটের উৎক্ষেপণ থেকে শুরু করে মহাশূন্যে ক্রু মডিউলের কার্যকারিতা এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সেটি নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসার গোটা প্রক্রিয়াটি খুঁটিয়ে দেখা হবে। কোথাও কোনো সামান্য ত্রুটি বা দুর্বলতা ধরা পড়লে, মানব মিশন প্রেরণের আগেই তা সংশোধনের সুযোগ পাবেন বিজ্ঞানীরা।
মহাকাশ অভিযান সফল করার পাশাপাশি মহাকাশচারীদের নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনাও একটি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে মহাকাশযানের পুনঃপ্রবেশ এবং বঙ্গোপসাগর বা ভারত মহাসাগরে সেটিকে নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য ক্রু মডিউলে বিশেষ প্যারাশুট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় এই প্যারাশুটের মাধ্যমেই মডিউলের গতি কমানো হবে। মনুষ্যবিহীন এই প্রথম অভিযানে এই জটিল প্যারাশুট প্রযুক্তিকেও একসঙ্গে যাচাই করে নেওয়া হবে।
গগনযান মিশন ছাড়াও চলতি অর্থবর্ষে আরও ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে ইসরোর। যার মধ্যে রয়েছে এনভিএস-০৩ নেভিগেশন স্যাটেলাইটও। পাশাপাশি, সাম্প্রতিক উৎক্ষেপিত ইওএস-০৫ উপগ্রহটিকে ‘গুপ্তচর উপগ্রহ’ বলার দাবি সরাসরি খারিজ করেছেন ইসরো চেয়ারম্যান। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এটি একটি আর্থ অবজারভেশন বা পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ, যার মূল কাজ পৃথিবীর নিখুঁত ছবি ও নানা তথ্য সংগ্রহ করা। এই উপগ্রহটির আয়ু প্রায় নয় বছর হতে চলেছে বলে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে, আগামী কয়েক মাস ইসরোর ল্যাব ও লঞ্চপ্যাডগুলিতে তীব্র ব্যস্ততার মধ্য দিয়েই কাটতে চলেছে।