বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার! আরজি কর কাণ্ডে তড়িঘড়ি দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে প্রাক্তন পৌরপ্রধান

আরজি কর তথা তিলোত্তমা হত্যা এবং তড়িঘড়ি দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে পানিহাটি পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে। দীর্ঘ দিন ধরে গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার হন তিনি। শুক্রবার তাঁকে কড়া নিরাপত্তায় ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁর তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

গ্রেফতারের নেপথ্য কাহিনী: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আরজি করের ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন সোমনাথ দে। তদন্তকারীদের ধোঁকা দিতে তিনি বারবার নিজের ডেরা পরিবর্তন করেছিলেন এবং পুরনো ফোন নম্বর বদলে নতুন বেশ কিছু সিম ব্যবহার করছিলেন। যার ফলে তাঁকে ট্রেস করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় তদন্তকারী অফিসারদের। অবশেষে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। ট্রানজিট রিমান্ডে বৃহস্পতিবার তাঁকে খড়দহ থানায় নিয়ে আসা হয় এবং শুক্রবার ভোরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আদালতে পেশ করা হয়।

আদালত চত্বরে বিক্ষোভ: এদিন প্রাক্তন চেয়ারম্যান সোমনাথ দে’কে খড়দহ থানা থেকে ব্যারাকপুর আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং ডিম ছোঁড়ারও অভিযোগ ওঠে। উল্লেখ্য, এই মামলায় এর আগে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বারবার ঠিকানা বদলেও শেষরক্ষা হয়নি, এখন পুলিশি হেফাজতে সোমনাথকে জেরা করে এই কাণ্ডের আরও কোনো যোগসূত্র বা নেপথ্যের তথ্য সামনে আসে কি না, সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *