শনি পুজোর প্রসাদ খেতেই ৩০০ গ্রামবাসীর মনে চরম আতঙ্ক! কী এমন ঘটল যে ভ্যাকসিনের জন্য হাসপাতাল ঘেরাও করলেন তাঁরা?

শনি পুজোর প্রসাদ হিসেবে গরুর দুধের সিন্নি খেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন প্রায় তিনশো গ্রামবাসী। জলাতঙ্কে একটি বাছুরের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে ছুটে গিয়ে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য জোর দাবি জানান।
আসলে কী ঘটেছিল? আলিপুরদুয়ার জেলার বারবিশার পূর্ব চকচকা মিলনপল্লি এলাকার একটি পরিবার শনি পুজোর জন্য নিজের গরুর দুধ দিয়ে প্রসাদের সিন্নি তৈরি করেছিল। গত ২৯ অগস্ট সেই সিন্নি গ্রামের প্রায় তিনশো জন মানুষ গ্রহণ করেন। কিন্তু সম্প্রতি বিপত্তি বাঁধে, যখন জানা যায় ওই গরুর বাছুরটিকে সপ্তাহ দু’য়েক আগে একটি কুকুর কামড়েছিল। গত দু’দিন ধরে বাছুরটি অস্বাভাবিক আচরণ ও তীব্র চিৎকার করতে শুরু করে। এরপর পশু চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান যে বাছুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়েছে এবং পরবর্তীতে সেটির মৃত্যু হয়। এমনকি মা-গরুটির অবস্থাও বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড় ও প্রশাসনের বক্তব্য: বাছুরের জলাতঙ্কে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সেই দুধ খাওয়া গ্রামবাসীদের একাংশের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৫০ জন স্থানীয় মানুষ কামাক্ষ্যাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে গিয়ে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য জোর করতে শুরু করেন।
এই বিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুমিত গঙ্গোপাধ্যায় জানান, “ওখানকার মানুষের মধ্যে সিন্নি খাওয়া নিয়ে একটা চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। বাছুরটা মারা যাওয়ার খবর এবং গরুর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাঁরা ভয় পেয়ে যান। মূলত সাধারণের আতঙ্ক দূর করতেই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।” পাশাপাশি, স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে আতঙ্কিত না হয়ে গ্রামবাসীদের শান্ত থাকার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।