জিততে নয়, গণতন্ত্রের পাঠ পড়াতে লড়তেন! আমেঠি-রায়বেরেলিতে হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে লড়াই করা নাগারমাল বাজোরিয়ার জীবনাবসান

ভোটে লড়াইয়ের দৌড়ে নয়, অবশেষে জীবনযুদ্ধের কাছে হার মানলেন ভারতের নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম রঙিন এবং নাছোড়বান্দা চরিত্র নাগারমাল বাজোরিয়া। দীর্ঘ জীবন পেরিয়ে ৯৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ কয়েক দশকে ২৮০ বারেরও বেশি বিভিন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন এই বৃদ্ধ।

১৯৩০ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে জন্মগ্রহণ করলেও স্বাধীনতার আগেই তাঁর পরিবার বিহারের ভাগলপুরে চলে আসে। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও রাজনীতি এবং নির্বাচন ছিল তাঁর আজীবনের নেশা। ফলাফল কী হবে তা নিয়ে না ভেবে, সাধারণ মানুষকে গণতান্ত্রিক অধিকার ও মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। তাঁর নাতি সৌরভ বাজোরিয়া জানান, “ভোটারদের চোখ খুলে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতেন।”

হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে লড়াকু মেজাজ: ১৯৬০ সালে ৩০ বছর বয়সে ভাগলপুর পৌরসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে নির্বাচনী সাফল্যের স্বাদ পান নাগারমাল। এরপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশের প্রথমসারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তালিকায় নাম রয়েছে রায়বেরেলি থেকে ইন্দিরা গান্ধী, আমেঠি থেকে রাজীব গান্ধী, এবং সঞ্জয় গান্ধী, অটল বিহারী বাজপেয়ী, এল কে আদবানি ও প্রণব মুখার্জির মতো হেভিওয়েট নেতাদের। এমনকি ১৯৬৯ সালে ভি ভি গিরির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সাল পর্যন্ত নির্বাচনী ময়দানে সক্রিয় ছিলেন নাগারমাল।

অভিনব প্রচার ও সমাজসেবা: নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অনন্য। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ২০০৫ সালের নির্বাচনে গাধার গলায় দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান ঝুলিয়ে মিছিল করেছিলেন তিনি। হাতে একটি ঘণ্টা এবং পুরনো ধাঁচের ঘড়ি পরে ঘুরে বেড়ানোই ছিল তাঁর সিগনেচার স্টাইল। কেবল রাজনীতি নয়, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো, গরিব মেয়েদের বিয়েতে সাহায্য করা এবং পানীয় জলের সংকটে নিজ খরচে হ্যান্ডপাম্প বসানোর মতো বহু সমাজসেবামূলক কাজও করে গেছেন এই প্রবীণ। বৃহস্পতিবার পাটনায় তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে রাজনৈতিক মহলে। শুক্রবার ভাগলপুরের বারারি শ্মশানঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *