Avocado Farming in North Bengal: ড্রাগন ফলের পর এবার বাজিমাত! উত্তরবঙ্গের মাটিতে ‘সবুজ সোনা’ ফলিয়ে এক গাছ থেকেই পকেটে আসুক হাজার হাজার টাকা

ড্রাগন ফলের অভাবনীয় সাফল্যের পর এবার উত্তরবঙ্গের কৃষিক্ষেত্রে নতুন বিপ্লবের হাতছানি। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং ‘সবুজ সোনা’ (Green Gold) নামে পরিচিত ‘অ্যাভোকাডো’ (Avocado) চাষকে কেন্দ্র করে দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মেক্সিকান হাস অ্যাভোকাডো চাষে পাহাড়ি ও সমতলের কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ইজরায়েল থেকে উন্নতমানের চারা এনে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কোফার্ম’ (Co-Farm)-এর উদ্যোগে এই চাষে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
কেন উত্তরবঙ্গে অ্যাভোকাডো চাষ লাভজনক?
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাভোকাডো চাষের জন্য উষ্ণ ও তুষারমুক্ত আবহাওয়া সবচেয়ে উপযোগী। সাধারণত ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, নিয়মিত সেচ এবং ভালো জলনিকাশ ব্যবস্থাযুক্ত ঝুরঝুরে মাটি এই ফল উৎপাদনের জন্য আদর্শ। বর্ষা বা বসন্তকালে কলম করা উন্নতমানের চারা রোপণ করলে চমৎকার ফলন পাওয়া যায়। গাছগুলির মধ্যে প্রায় ৫ থেকে ৭ মিটার দূরত্ব রেখে এক একর জমিতে প্রায় ১১২টি গাছ লাগানো সম্ভব। ড্রিপ ইরিগেশন বা ফোঁটা সেচ পদ্ধতির পাশাপাশি জৈব সার ও সঠিক পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করলে গাছ দ্রুত পুষ্ট হয়।
ফলন ও আয়ের হিসাব
চারা লাগানোর মাত্র ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যেই গাছে ফল ধরতে শুরু করে। গাছ পুরোপুরি পরিণত হলে (৭ থেকে ৮ বছর বয়সে) একটি পূর্ণবয়স্ক গাছ থেকে বছরে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত ফল পাওয়া সম্ভব। কোফার্মের অধ্যাপক অমরেন্দ্র পান্ডের মতে, বর্তমানে দেশের বাজারে থাকা অ্যাভোকাডোর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সেই জায়গায় স্থানীয়ভাবে উত্তরবঙ্গে এই চাষ সফল করা গেলে কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, তেমনই আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে। উন্নতমানের হাস অ্যাভোকাডো গাছ থেকে একজন কৃষক বছরে কেবল একটি গাছ থেকেই ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।
প্রশাসনের সহায়তা ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
অ্যাভোকাডোর ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেছিলেন। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করতে এই ফলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোফার্মের পক্ষ থেকে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিপণনের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। সঠিক চারা, উপযুক্ত আবহাওয়া এবং বৈজ্ঞানিক পরিচর্যার হাত ধরে আগামী দিনে এই ‘বাটার ফ্রুট’ই উত্তরবঙ্গের কৃষকদের অর্থনৈতিক ভাগ্য বদলের আসল চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে।