Dengue Alert: ডেঙ্গি মানেই শুধু প্লেটলেট কমা নয়! বিকল হতে পারে লিভার-কিডনি, চিকিৎসকের এই সতর্কবার্তা না জানলেই বিপদ

বর্ষার জমা জলে বাড়ছে এডিস মশার উপদ্রব, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ। চিকিৎসকদের মতে, বৃষ্টির পর জমা জল যদি পাঁচ থেকে সাত দিনের বেশি জমে থাকে, তবে সেখানে খুব দ্রুত মশার লার্ভা জন্মায় ও বংশবৃদ্ধি ঘটে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডেঙ্গি নিয়ে একটি বড় ভুল ধারণা রয়েছে যে, ডেঙ্গি মানেই বুঝি শুধু রক্তে প্লেটলেট কমে যাওয়া। কলকাতার প্রখ্যাত চিকিৎসক ডঃ এস এ মল্লিক জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে কেবল প্লেটলেট নয়, রক্তক্ষরণ, ব্লাড প্রেশার কমে যাওয়া, কিডনির সমস্যা, হার্টের জটিলতা এমনকি লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
ডেঙ্গি কীভাবে ছড়ায় এবং এর উপসর্গ কী?
ডেঙ্গি একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস ইজিপ্টাই মশার মাধ্যমে ছড়ায়। ডেঙ্গি রোগীর রক্ত খাওয়ার ৮ থেকে ১০ দিন পর ওই মশা সুস্থ ব্যক্তিকে কামড়ালে এই রোগ হতে পারে। সংক্রমণের কয়েকদিন পর মাথা ব্যথা, তীব্র জ্বর, চোখের পিছনে ব্যথা, পেশি ও জয়েন্টে ব্যথাসহ চরম দুর্বলতা ও র্যাশের মতো লক্ষণ দেখা দেয়। পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা ডায়রিয়া থাকলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।
লিভারের ওপর ডেঙ্গির কুপ্রভাব
ডেঙ্গিতে আক্রান্ত অনেক রোগীর এসজিপিটি (SGPT) ও এসজিওটি (SGOT)-র মতো লিভার এনজাইমগুলো অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। গুরুতর ডেঙ্গিতে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে জন্ডিস, রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষমতার পরিবর্তন, গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং চরম অবস্থায় লিভার ফেলিওর পর্যন্ত হতে পারে।
রেড অ্যালার্ট: কখন হাসপাতালে যাবেন?
জ্বর কমে যাওয়ার পর যদি রোগী হঠাৎ অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়েন কিংবা নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে:
-
পেটে তীব্র ব্যথা বা চাপ দিলে ব্যথা অনুভব হওয়া
-
ঘন ঘন বমি বা বমিতে রক্ত, নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত
-
ইউরিন বা স্টুলে রক্ত যাওয়া
-
অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, ঝিমুনি বা মাথা ঘোড়া
-
শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব খুব কমে যাওয়া বা হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
-
রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া এবং ত্বক ফ্যাকাশে হওয়া বা জন্ডিস দেখা দেওয়া