মুখ্যমন্ত্রীর সভার ছাদে উঠে স্লোগান! পুলিশি হেপাজতে শিখ যুবকের ওপর অকথ্য নির্যাতনের অভিযোগ, তোলপাড় রাজনীতি

পাঞ্জাবের সাংরুরের শেরুন গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের জনসভা চলাকালে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার সমাজকর্মী মোহনজিৎ সিং জনসভার সময়েই একটি বাড়ির ছাদে চড়ে পাঞ্জাব সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং কালো কাপড় প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানান। নিরাপত্তা জনিত কারণ দেখিয়ে পুলিশ তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে। তবে ছাড়া পাওয়ার পরই ওই যুবক পুলিশি হেপাজতে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর ও নির্যাতনের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটকের পর ওই যুবকের ডাক্তারি পরীক্ষা ও ডোপ টেস্ট করা হয় এবং রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযুক্ত যুবকের দাবি, এই ডোপ টেস্টের রিপোর্ট সম্পূর্ণ ভুয়া এবং তাঁকে ফাঁসানোর জন্যই পুলিশ এই কারসাজি করেছে। এদিকে পুলিশ সাফাই দিলেও ঘটনার একটি আহত যুবকের ভিডিও সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিরোধী দলগুলো এই ঘটনায় পাঞ্জাব সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে।

ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘জাতীয় লজ্জা’ বলে অভিহিত করেছেন শিরোমণি অকালি দল প্রধান সুখবীর সিং বাদল। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, পাঞ্জাবের মাদক সমস্যা নিয়ে সত্যি কথা বলার সাহস দেখানোর জন্যই ওই শিখ যুবকের ওপর এই অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়েছে।

সুখবীর বাদল আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এবং তাঁর দলের নির্দেশে ওই যুবককে বিবস্ত্র করে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে, ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর পাগড়ি ও দাড়ি ধরে টানাটানি করা হয়েছে। এমনকি ব্লেড দিয়ে উরুতে আঘাত করে ক্ষতস্থানে লবণ ঘষে দেওয়া হয়েছে এবং ঘণ্টাখানেক ধরে ভেজা চপ্পল দিয়ে পেটানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, যুবকের মা ও বোনদেরও প্রকাশ্যে হেনস্তা করা হয়েছে বলে দাবি করেন অকালি দল প্রধান।

এই নৃশংস ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (NHRC) এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার দাবি তুলেছেন সুখবীর সিং বাদল। পাশাপাশি, আম আদমি পার্টির সরকারের এই ‘সন্ত্রাস’ উন্মোচন করতে জাতীয় গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *