ইরানকে কাবু করতে গিয়ে নিজেই ফাঁদে! ট্রাম্পের ভুল পদক্ষেপে চোখের পলকে বদলে গেল মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ?

ইরাক যুদ্ধের পর পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক হস্তক্ষেপ ছিল ইরান যুদ্ধ। কিন্তু সেই সংঘাতের ছ’মাস কাটতে না কাটতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক ভয়ানক ভূ-রাজনৈতিক চোরাবালিতে আটকে পড়েছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই নিহত হলেও, তেহরান মোটেও ভেঙে পড়েনি। বরং যুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়ে তারা আরও বেশি রাজনৈতিক সংহতি ও অদম্য জাতীয়তাবাদের পরিচয় দিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের হিসাব পুরোপুরি উল্টে দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের ধাক্কা
আমেরিকার দীর্ঘমেহাদী অবরোধ এবং তেল রফতানিতে বাধার মুখেও ইরান এক অভাবনীয় কৌশল নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে কার্যকর করা হয়েছে পাল্টা অবরোধ। এর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলিকে পারাপারের জন্য এখন তেহরানের অনুমতি নিতে হচ্ছে, যা মার্কিন আধিপত্যের মুখে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। ওয়াশিংটনের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বা বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা সাময়িক স্বস্তি দিলেও তা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। এর ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ও বিমা সংস্থাকেও বড়সড় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
ভেঙে পড়ছে আব্রাহাম চুক্তি ও কূটনৈতিক সমীকরণ
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য ছিল ‘আব্রাহাম চুক্তি’। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আঞ্চলিক কাঠামো এখন ভাঙনের মুখে। একদিকে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং তাতে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে। অন্যদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কেও ফাটল দেখা দিয়েছে। গাজা পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহুর অনীহা এবং ইজরায়েলের আসন্ন নির্বাচন ওয়াশিংটনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত এমন এক পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতোই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিবর্তিত ভূ-রাজনীতিতে মার্কিন প্রভাব যে ক্রমেই সঙ্কুচিত হয়ে আসছে, তা এক প্রকার স্পষ্ট।