২ সপ্তাহ আগে চিঠি, আজ মেয়ের বক্তব্য—ক্ষমতার লড়াইয়ে উড়ল মন্ত্রীর পদ! তেলঙ্গানায় কংগ্রেসের অন্দরমহলে টানাপোড়েন

তেলঙ্গানায় বড় রাজনৈতিক ধাক্কা। মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডির সমালোচনা করায় বনমন্ত্রী কোন্ডা সুরেখাকে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক সরকারি বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত সুরেখার মেয়ে কোন্ডা সুস্মিতা প্যাটেল-এর প্রকাশ্য মন্তব্য থেকে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির বিরুদ্ধে সরাসরি সমালোচনা করেন। এর পরই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে সুরেখাকে অপসারণের সুপারিশ করেন এবং তা কার্যকর হয়।
📜 দুই সপ্তাহ আগেই চিঠি দিয়েছিলেন সুরেখা
শুধু মেয়ের মন্তব্য নয়, বরখাস্তের দিনই প্রকাশ্যে এসেছে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কংগ্রেসের শীর্ষ পাঁচ নেতাকে লেখা সুরেখার একটি চিঠি। সেখানে তিনি তেলঙ্গানা সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে তাঁকে ক্রমশ কোণঠাসা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা তেলঙ্গানা কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব আবারও সামনে এনে দিল।
🗣️ পদ হারিয়েও দলছুট নন সুরেখা
বরখাস্তের পর সুরেখা জানান, তিনি কংগ্রেস ছাড়ছেন না। তিনি বলেন—
“আমি কোথাও যাচ্ছি না। আমি কংগ্রেসেই থাকছি। বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাব। আমার নেতা এবং আমার মানুষের জন্য আমি নিজের দায়িত্ব পালন করব।”
একইসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন—
“এ রেবন্ত রেড্ডি জোর করে আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়েছেন। যাঁরা রেবন্ত রেড্ডিকে গালিগালাজ করেছেন বা তাঁর সমালোচনা করেছেন, তাঁরা সবাই এখনও পদে বহাল রয়েছেন।”
🗣️ ‘অনেক নেতা-কর্মী অসন্তুষ্ট’
সুরেখা দাবি করেন, শুধু তিনিই নন, দলের আরও অনেক নেতা-কর্মী সরকারের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট। তিনি বলেন—
“সবাই আমাকে সমর্থন করবে। তারাও সন্তুষ্ট নয়। কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে সেটা বলছে না।”
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি কর্মী ও মন্ত্রীদের কথা শোনে এবং সমস্যার সমাধান করে, তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় ফিরতে পারবে। তা না হলে নয়।
✈️ দিল্লি যাচ্ছেন না সুরেখা
মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের পর তিনি দিল্লিতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করবেন না বলেও জানিয়েছেন।
📌 এক নজরে ঘটনার সময়রেখা
| তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| প্রায় ২ সপ্তাহ আগে | সুরেখা দলের শীর্ষ নেতাদের চিঠি পাঠান, সরকারি অসন্তোষ প্রকাশ করেন |
| বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) | মেয়ে সুস্মিতা প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করেন |
| একই দিন | মুখ্যমন্ত্রীর সুপারিশে রাজ্যপাল সুরেখাকে বরখাস্ত করেন |
| বরখাস্তের পর | সুরেখা দলছুটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন, মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনা চালিয়ে যান |