১৪ কোটি টাকার কাজেও শেষরক্ষা হল না! মালদায় বন্যা পরিস্থিতির জেরে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন

শেষরক্ষা হলো না! গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় মালদার ভূতনি চরের বিভিন্ন গ্রামে হুড়মুড়িয়ে জল ঢুকতে শুরু করেছে। যার ফলে ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জীবনে ফের নেমে এসেছে চরম বন্যা পরিস্থিতি। বাঁধ ভাঙার খবর পেয়েই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং ত্রাণের বন্দোবস্ত করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাঠে নেমে পড়েছে রাজ্য প্রশাসন।

১৪ কোটি টাকার বাঁধে ফাটল ও রাজনৈতিক তরজা: গঙ্গার তীব্র তাণ্ডবে ভূতনির পুরোনো বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পেয়ে এদিন সকালেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল। বাঁধের বাকি অংশ রক্ষা করতে সেচ দফতরকে তদারকি করতে দেখা যায় তাঁকে। তবে এই পরিস্থিতির জন্য পূর্ববর্তী পরিকল্পনা ও সেচ দফতরের ত্রুটিকেই দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ১৪ কোটি টাকা খরচ করে বাঁধ তৈরি হলেও সঠিক পিচিং ও পরিকল্পনার অভাবে আজ এই বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। জলের তোড়ে দুর্লভটোলা, ভূবনটোলার মতো নীচু এলাকাগুলিতে ইতিমধ্যেই গঙ্গার জল ঢুকে পড়েছে। বালির বস্তা ফেলে জল আটকানোর চেষ্টা চলছে।

প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ ও ত্রাণশিবির: পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেচ প্রতিমন্ত্রী জয়েল মুর্মু, জেলাশাসক রাজনবীর সিং এবং পুলিশ সুপার অনুপম সিং সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা ভাঙনকবলিত এলাকাগুলি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। রতুয়া ১ নম্বর ব্লক-সহ ভূতনি ও মানিকচকের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ বৈঠকও করেন তাঁরা।

জেলাশাসক জানিয়েছেন, দুর্গত মানুষদের জন্য ফ্লাড শেল্টার বা ত্রাণশিবিরগুলি খুলে দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে রান্না করা খাবার, ত্রিপল, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কিট, চিঁড়ে-গুড় এবং পানীয় জল বিতরণের কাজ চলছে। বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলিতে বালির বস্তা ও প্রোপ্রোপাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেচ দফতর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *