‘দরকারে বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসব!’ সরাসরি অমিত শাহ ও পুলিশকে চরম হুঁশিয়ারি মমতার

রাজ্যজুড়ে ক্রমবর্ধমান ‘রাজনৈতিক সন্ত্রাস’ এবং ‘পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা’র অভিযোগ তুলে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে তীব্র হুংকার ছাড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জন্মাষ্টমীর ঠিক আগের দিন একটি ফেসবুক লাইভ বার্তার মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই অত্যাচার না থামলে তিনি দিল্লিতে গিয়ে এবং খোদ বিজেপি নেতাদের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসতে বাধ্য হবেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচন লুটের অভিযোগ: দিল্লিতে বসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোটা নির্বাচন ব্যবস্থা লুট করেছেন বলে এদিন সরাসরি অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর দাবি, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং তথাকথিত জনগণনার নামে ভোটার তালিকা থেকে যোগ্যদের নাম বাদ দিয়ে মানুষকে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে। বাংলার সংস্কৃতি, শিক্ষা ও ঐতিহ্য আজ চরম সঙ্কটের মুখে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মধ্যরাতের সন্ত্রাস ও পুলিশের ভূমিকা: কোচবিহার, বাঁকুড়া, হাওড়া থেকে শুরু করে খাস কলকাতার বুকেও দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর চলা দমনের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। বিশেষ করে কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি থানার কাছে রাতের অন্ধকারে দলের আইটি অফিসে হামলা এবং চারজনকে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষোভপ্রকাশ করেন তিনি। পুলিশের একাংশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পুলিশ যেন ‘ভক্ষক’ না হয়ে ‘রক্ষক’-এর ভূমিকা পালন করে।

একইসঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, যাদবপুর সহ বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে অসহিষ্ণুতা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। পরিশেষে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি আওড়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে রাজনৈতিক ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয় এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের আদালতেই সবকিছুর চূড়ান্ত বিচার হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *