চাকরি খাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা? বিল গেটসের আশঙ্কার মাঝেই বড় বহুজাতিক সংস্থায় ব্যাপক ছাঁটাই!

সকাল ছ’টায় ঘুম ভাঙতেই ইমেইলে এল চাকরি যাওয়ার নোটিশ! সম্প্রতি বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা ওরাকলের (Oracle) ভারতে কর্মরত প্রায় তিন হাজার কর্মীর সঙ্গে ঠিক এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই ঘটনাকে ‘সিক্স এএম হরর’ বা সকাল ছ’টার বিভীষিকা বলে উল্লেখ করেছেন। শুধু ওরাকলই নয়, অ্যামাজন থেকে শুরু করে মাইক্রোসফট—বিশ্বের প্রথম সারির টেক জায়ান্টগুলিতে যেভাবে একের পর এক ছাঁটাইয়ের হিড়িক পড়েছে, তাতে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ চওড়া হয়েছে।
‘সিক্স এএম হরর’ এবং কর্পোরেট মহলে শোরগোল: রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার জায়ান্ট ওরাকল তাদের মোট কর্মীসংখ্যার ১০ শতাংশ বা প্রায় ১৩ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, তারই অংশ হিসেবে ভারতে এই কড়া পদক্ষেপ করেছে। এর পাশাপাশি অ্যামাজন সংস্থাও ভারতে প্রায় ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে। শুধু তাই নয়, বাজার গবেষণা সংস্থা সূত্রে খবর, মাইক্রোসফটও প্রায় ৫০০ কর্মীকে কঠোর নজরদারির বা পারফরম্যান্স ইম্প্রুভমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় এনেছে, যা থেকে নতুন করে ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ছাঁটাইয়ের পেছনে কি দায়ী এআই? সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিশেষজ্ঞদের একাংশের জোরালো দাবি, এই ব্যাপক ছাঁটাইয়ের প্রধান নেপথ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) এবং অটোমেশনের রমরমা। বিভিন্ন সংস্থা এআই ডেটা সেন্টার ও উন্নত প্রযুক্তি কেনার জন্য বাজেট তৈরি করতে গিয়ে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিচ্ছে। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস আগেই এআই-এর দ্রুত অগ্রগতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানুষের জন্য চাকরি ‘সংরক্ষণের’ বা ‘হিউম্যান রিজার্ভড’ ক্ষেত্র তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী কুপ্রভাবের আশঙ্কা: বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণাপত্র অনুযায়ী, খরচ কমাতে সংস্থাগুলো কর্মী ছাঁটাই করে এআই-কে কাজ দিয়ে দিলেও, এই কর্মীরাই আবার বাজারের মূল গ্রাহক। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ বেকার হয়ে পড়লে পণ্য কেনার মতো অর্থ সাধারণ মানুষের হাতে থাকবে না, যা ভবিষ্যতে চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে পারে। প্রযুক্তির এই অনিয়ন্ত্রিত দৌড় শেষ পর্যন্ত চাকরির বাজারকে কোথায় নিয়ে গিয়ে দাঁড়ায়, এখন সেটাই দেখার।