ফিরহাদ হাকিমের সংস্থায় হানা তদন্ত কমিশনের! দেড় ঘণ্টা ধরে চলল ম্যারাথন তল্লাশি

রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি করে এবার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে যুক্ত দুই সংস্থার অফিস ও কারখানায় হানা দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তদন্ত কমিশন। জমি সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার নিউ আলিপুরের একটি কারখানা চত্বরে এই অভিযান চালানো হয়। হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বাধীন এই কমিশন গঠন নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ নিউ আলিপুরের টালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের ৩২এ ঠিকানায় তিন সদস্যের একটি দল হানা দেয়। হাকিম পলিমেকার্স প্রাইভেট লিমিটেড এবং হাকিম কেমিক্যালস নামের দুটি সংস্থায় এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। টানা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই অভিযানে কারখানার শেড ও জমি সংক্রান্ত নথিপত্র খুঁটিয়ে দেখেন কমিশনের সদস্যরা। অভিযান শেষে কমিশনের এক সদস্য জানান, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করতেই তাঁরা এসেছিলেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য তাঁদের হাতে এসেছে। তবে ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি তাঁরা।
নথি অনুযায়ী, হাকিম পলিমেকার্স প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে। এই সংস্থার ওয়েবসাইটে ফিরহাদ হাকিমকে ‘ফাউন্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ডিরেক্টর পদে রয়েছেন তিনি ও সমীর ঘোষ। পরবর্তীতে বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত হন প্রিয়দর্শিনী হাকিম। পাশাপাশি, প্লাস্টিক ও পলিথিন উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হাকিম কেমিক্যালসের নামও রয়েছে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নথিতে। অতীতে নির্বাচনী হলফনামাতেও এই পারিবারিক মালিকানাধীন গোডাউনের কথা উল্লেখ করেছিলেন ফিরহাদ।
বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই এই বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এডিজি কে জয়রামন। একসময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য এবং কলকাতার বর্তমান বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম সম্প্রতি দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাঝেই এই আকস্মিক তল্লাশি অভিযান ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চরমে উঠেছে। তল্লাশির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের তরফ থেকে যোগাযোগ করা হলেও প্রাক্তন মন্ত্রী এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।