বছরের শেষেই কি রাজ্যে আসছে UCC বিল? খসড়া তৈরিতে বড় পদক্ষেপ নিলেন বিশেষজ্ঞরা

নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতো বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। এই উদ্দেশ্যে গঠিত বিশেষ ড্রাফটিং প্যানেল বা বিশেষজ্ঞ কমিটি ইতিমধ্যেই তাদের প্রথম দফার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসল। দিল্লির চাণক্যপুরী বঙ্গভবনে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইউসিসি-র সামগ্রিক রূপরেখা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
দিল্লির বৈঠকে কী কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই। উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরাও। বৈঠক সূত্রে বেশ কিছু বড় তথ্য সামনে এসেছে:
-
আগামী ১০ দিনের মধ্যে কলকাতায় বিশেষজ্ঞ কমিটির নিজস্ব অফিস চালু করা হবে।
-
খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মতামত চাওয়া হবে।
-
রাজ্যের প্রায় ৬টি গুরুত্বপূর্ণ শহর—যেমন কলকাতা, বর্ধমান, মেদিনীপুরে সরাসরি গিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত সংগ্রহ করবে এই কমিটি।
-
অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কীভাবে ইউসিসি লাগু হচ্ছে, তার সমস্ত নথি ও খসড়া পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
-
চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সাল শেষ হওয়ার আগেই ইউসিসি-র পূর্ণাঙ্গ খসড়া তৈরি করে ফেলার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
কারা রয়েছেন এই কমিটিতে? রাজ্যের এই ইউসিসি ড্রাফটিং কমিটিতে একঝাঁক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে রাখা হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, আইএএস দ্যুষ্মন্ত নারিয়ালা, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস শত্রুঘ্ন সিং, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সংঘমিত্রা ঘোষ, অধ্যাপক ডঃ রত্না ভট্টাচার্য, গোপালচাঁদ মিশ্র, আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক এবং নির্মাল্য ভট্টাচার্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলিতে এই আইন চালুর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব থাকতে পারে। ফলে সরকারের এই তৎপরতা যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।