‘তিনজন একসঙ্গে আমার মেয়ের দেহ জ্বালিয়ে দিয়েছিল!’ বেঙ্গালুরু থেকে সোমনাথের গ্রেপ্তারি নিয়ে বিস্ফোরক অভয়ার মা

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের নৃশংসে হত্যা ও ঘটনার পর তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের চাঞ্চল্যকর মামলায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের পর এবার ভিনরাজ্য থেকে গ্রেফতার করা হলো পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-কে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেঙ্গালুরু থেকে ভোররাতে সোমনাথকে জালে তোলে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে ওড়িশা ও হায়দরাবাদের একাধিক গোপন ডেরায় আত্মগোপন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তিনি।
কী অভিযোগ ছিল সোমনাথের বিরুদ্ধে?
আরজি কর কাণ্ডের পর মৃতদেহের ডিসচার্জ সার্টিফিকেটে জোরপূর্বক সই করিয়ে নেওয়া এবং পরিজনদের তোয়াক্কা না করে দ্রুত দেহ সৎকারের অভিযোগ উঠেছিল। নিহতের পরিবারের তরফে শুরু থেকেই সোমনাথ দে, নির্মল ঘোষ এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির দাবি তোলা হচ্ছিল।
বিস্ফোরক অভয়ার মা রত্না দেবনাথ:
সোমনাথ দে-র গ্রেপ্তারি খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ উগরে দেন নিহত চিকিৎসকের মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি বলেন, “এটাতো হওয়ারই ছিল, ও এতদিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। সেদিন তিনজন একসঙ্গে জোট বেঁধে আমার মেয়ের শবদেহ জ্বালিয়ে দিয়েছিল। গ্রিন করিডোর বানিয়ে আমাদের নিজস্ব আত্মীয়-স্বজন বা পরিবারের কাউকে সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি, এমনকি বাবা-মা হিসেবে আমাদেরও আটকানো হয়েছিল।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “কাউকে না জানিয়ে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে আরজি কর থেকে বডি এনে ফেলার অনুমতি ও কাকে দিয়েছিল? আমরা যখন টালা থানায় দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবি নিয়ে বসে আছি, তখন পুলিশকে কাজে লাগিয়ে এই ছক সাজানো হয়েছিল।”
অভয়া হত্যাকাণ্ডের দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও একের পর এক হেভিওয়েটদের গ্রেপ্তারি ফের রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে।