দেওয়ালে টিকটিক শব্দ নেই! বিলাসবহুল হোটেলের ঘরে কেন রাখা হয় না ঘড়ি? জানলে অবাক হবেন

ঘুম থেকে উঠেই ঘড়ি দেখা আর অ্যালার্মের শব্দে চমকে উঠে কাজের জন্য ছোটা— এটাই তো আমাদের চিরচেনা রুটিন। কিন্তু কাজের চাপ থেকে দূরে ছুটি কাটাতে যখন আমরা কোনো বিলাসবহুল হোটেলে যাই, তখন আরামের চাদরে মুড়ে কাটানো সেই সময়টায় কিন্তু একটা জিনিস গভীরভাবে অনুপস্থিত থাকে। কখনো খেয়াল করেছেন কি, বেশিরভাগ হোটেলের কামরার দেওয়ালে কোনো ঘড়ি থাকে না কেন?
এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক কারণ:
-
মুক্ত মনের আনন্দ: পর্যটকরা যাতে সময়ের বাঁধনে নিজেদের বন্দি না করে পুরোপুরি ছুটি উপভোগ করতে পারেন, সেটাই মূল উদ্দেশ্য। ঘড়ি সামনে থাকলে সাবকনশাস মনে ডেডলাইন বা সময়ের কাঁটা নিয়ে উদ্বেগ কাজ করে, যা মনকে পুরোপুরি শিথিল হতে দেয় না।
-
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: আজকাল ভ্রমণকারীদের প্রত্যেকের হাতেই স্মার্টফোন ও ঘড়ি থাকে। ফলে আলাদা করে ঘরের দেওয়ালে ঘড়ি ঝুলিয়ে সময় দেখার কোনো প্রয়োজনই পড়ে না। তার বদলে হোটেলের মালিকরা ঘরের দেওয়াল সাজাতে নান্দনিক ডেকরেটিভ আইটেম বা পেইন্টিং ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন।
-
অভিযোগ এড়ানোর কৌশল: ঘড়ি না থাকার পেছনে আরেকটি অবাক করা কারণ হলো পর্যটকদের বিভিন্ন অভিযোগ। ঘড়িতে ভুল সময় দেখানো, ঘড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা রাতে ঘড়ির ‘টিকটিক’ শব্দে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার মতো সমস্যা এড়াতেই হোটেল কর্তৃপক্ষ ঘরে দেওয়াল ঘড়ি রাখা থেকে বিরত থাকে।
তাই পরের বার যখন কোনো হোটেলে ছুটি কাটাতে যাবেন, দেওয়াল ঘড়ির অনুপস্থিতি আপনাকে সময় মনে করিয়ে দেওয়ার বদলে বরং আরও বেশি মানসিক শান্তি ও স্বস্তি এনে দেবে।