‘ভারত বা দক্ষিণ আফ্রিকাও তো হেরে যায়!’ সমালোচকদের মুখের মতো জবাব দিয়ে কিসের সাফাই দিলেন পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি?

লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে লজ্জাজনক হারের পর থেকেই চরম অস্থিতিশীলতা ও সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। দলের করুণ দশা এবং একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভিকে। এবার সেই সমস্ত সমালোচনার মোক্ষম ও কড়া জবাব দিলেন তিনি। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে সাফ জানিয়ে দিলেন, পিসিবি চেয়ারম্যান হওয়ার পর পাকিস্তানের ক্রিকেট ধ্বংস হয়নি, বরং দল র‍্যাঙ্কিংয়ে অনেক উন্নতি করেছে। শুধু তাই নয়, নিজের সাফাই গাইতে গিয়ে টিম ইন্ডিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার হারের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন তিনি।

সমালোচকদের একহাত নিলেন নকভি

সম্প্রতি ‘জियो নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে তিনি কোনোভাবেই এই ধরনের সমালোচনাকে ভয় পান না। যারা তাঁর কার্যকালে পাকিস্তান ক্রিকেট ধ্বংস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলছেন, তাদের সরাসরি দলের সাম্প্রতিক র‍্যাঙ্কিংয়ের দিকে চোখ বুলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নকভি আরও যোগ করেন, ক্রিকেট সংক্রান্ত যেকোনো গঠনমূলক পরামর্শ বা সমালোচনা শোনার জন্য তিনি প্রস্তুত, তবে তা হতে হবে ওয়াসিম আকরামের মতো কোনো কিংবদন্তি ক্রিকেটারের লেভেলের। সাধারণ মানুষের বা অন্যান্য সমালোচকদের কথার কোনো পরোয়া তিনি করেন না।

ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ

সমালোচকদের চুপ করাতে গিয়ে টিম ইন্ডিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রসঙ্গ তোলেন মহসিন নকভি। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা দল নামিবিয়ার কাছে হারে এবং ভারতও আয়ারল্যান্ডের মতো দলের কাছে পরাজিত হয়েছে। তাই বলে কি সেই দেশগুলোর ক্রিকেট শেষ হয়ে গিয়েছে? কোনো দলই রাতারাতি চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওঠে না। নিজের বোর্ডের কাজের সাফাই দিয়ে নকভি দাবি করেন, তাঁর আমলেই পাকিস্তান দল টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর থেকে ৬ নম্বরে এবং ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে ৮ নম্বর থেকে ৫ নম্বরে উঠে এসেছে।

যে কারণে তোপের মুখে পড়েছিলেন নকভি

উল্লেখ্য, লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শোচনীয় হারের পর দল ও ম্যানেজমেন্টে ব্যাপক রদবদল আনে পিসিবি। দল থেকে হঠাৎ করেই ৭ জন ক্রিকেটারকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, টেস্ট দলের প্রধান কোচ ও বোলিং কোচকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পিসিবির এই হঠাৎ নেওয়া চরম সিদ্ধান্তগুলোর পরই মহসিন নকভির নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পাকিস্তানজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *