মাদক পাচার চক্রে বিরাট হানা! দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে ইডি-র মেগা রেড, তল্লাশিতে কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?

মাদক পাচার চক্রের শিকড় সরাতে এবার আসরে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে নেমে দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে বড়সড় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থাটি। কেরালা, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা এবং কর্ণাটক—এই চার রাজ্যের প্রায় ২০টি ভিন্ন ঠিকানায় একযোগে চলছে এই মেগা রেড।

কোথায় কোথায় চলছে তল্লাশি?
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মূলত কেরালা এবং তামিলনাড়ুর বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তামিলনাড়ুর চেন্নাই ও রমনাতপুরম এবং কেরালার কোচি, মালাপ্পুরম, কিন্নুর ও ত্রিশূরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে হানা দিয়েছে ইডি-র একাধিক টিম। প্রিমভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA) বা অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নশা মুক্ত ভারত অভিযান’-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই মাদক কারবার এবং এর নেপথ্যে থাকা মূল মাথাদের খোঁজে তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আগে থেকেই দায়ের হয়েছিল ৮টি এফআইআর:
মাদক পাচারের এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অভিযোগে ইতিমধ্যেই ইডি-র তরফে মোট আটটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের আসল উৎস এবং টাকার লেনদেন কোথায় কীভাবে হচ্ছে, তা ট্র্যাক করার কাজ চালাচ্ছে এজেন্সি। কেরালার কোঝিকোড় ও পালক্কাড় জেলায় অভিযুক্ত আবু তাহির, হরিকৃষ্ণন, জগৎ এবং জೈಸালের মতো একাধিক ব্যক্তির ঠিকানায় এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে পিটিআই সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি এর্নাকুলাম গ্রামীণ পুলিশ পেরুমবাবুর এলাকা থেকে একটি দম্পতিকে আটক করেছিল। তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ১৮ কোটি টাকা মূল্যের ১৮ কেজি মাদক উদ্ধার করা হয়। এর পরেই থাইল্যান্ড থেকে বড় অঙ্কের মাদক পাচারের অভিযোগে আরও ৯ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ফেমা (FEMA) লঙ্ঘন নিয়ে তদন্ত:
প্রাথমিক তদন্তে ইডি জানতে পেরেছে যে, এই পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা থাইল্যান্ড ও অন্যান্য দেশ থেকে মাদক পাচারের জন্য বাহক বা ক্যুরিয়ারদের ভিসা ও নগদ টাকা সরবরাহ করত। অভিযুক্তদের একটি অংশ এখনও থাইল্যান্ডে লুকিয়ে রয়েছে বলে খবর। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক ও আইনি স্তরে জোরদার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় এই সংস্থার কঠোর পদক্ষেপে আগামী দিনে এই মাদক চক্রের আরও বড় কোনো যোগসূত্র সামনে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *