‘আমরা কি যুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়ে?’ জার্মান বিমানবন্দরে রুশ ড্রোন হামলার চেষ্টার পর ইউরোপজুড়ে কিসের আশঙ্কা?

অল্পের জন্য বড়সড় এক বিমান দুর্ঘটনা ও নাশকতার হাত থেকে রক্ষা পেল জার্মানি। দেশটির লিপজিগ বিমানবন্দরের (Leipzig Airport) সিকিউরিটি জোন থেকে বিস্ফোরক ও ডেটোনেটরযুক্ত একটি ড্রোন উদ্ধার করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে সামরিক সহায়তার মূল কেন্দ্র এই বিমানবন্দরে এমন নাশকতার চেষ্টার পেছনে সরাসরি রাশিয়ার হাত রয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে জার্মান সরকার।
কীভাবে ফাঁস হল এই চক্রান্ত? গত ৪ আগস্ট ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানের ঠিক পাশেই ওই বিস্ফোরকভর্তি ড্রোনটি দেখতে পাওয়া যায়। দীর্ঘ তদন্তের পর গত মঙ্গলবার ফেডারেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ডট (Alexander Dobrindt) জানিয়েছেন, ড্রোনটির গঠন এবং ব্যবহৃত বিস্ফোরক প্রযুক্তির ধরন দেখে স্পষ্ট যে, এর পেছনে উচ্চমানের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল। জার্মানির মতে, এটি রাশিয়ার এক ধরনের ‘হাইব্রিড অপারেশন’-এরই অংশ।
জার্মানির কড়া পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক বিতর্ক: ঘটনার পর বার্লিনের রুশ কালচারাল ইনস্টিটিউট এবং বনের রুশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। এছাড়া রাশিয়ান নাগরিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি এবং রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
তবে জার্মানির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির মতে, এই পদক্ষেপগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটাই নমনীয়। গ্রিন পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মস্কো এই সাধারণ পদক্ষেপে বিন্দুমাত্র ভয় পাচ্ছে না। অন্যদিকে, সিডিইউ (CDU)-এর নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ইউক্রেনকে আরও শক্তিশালী অস্ত্র (যেমন টাউরাস ক্রুজ মিসাইল) পাঠানোর দাবি তুলেছেন।
জার্মানি কি তবে যুদ্ধের মুখোমুখি? বারবার এই প্রশ্ন উঠছে যে, জার্মানি ও রাশিয়ার মধ্যে কি তবে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে? তবে জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, “আমরা সরাসরি যুদ্ধে নেই, তবে আমরা প্রতিদিন হাইব্রিড ওয়ারফেয়ারের লক্ষ্যবস্তু।” অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জার্মানির এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ এবং প্রমাণ সাজানোর অভিযোগ তুলে পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ইউরোপের বুকে এই নতুন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় কোনো সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন!