চারপাশে সব শেষ, কেবল অক্ষত দাঁড়িয়ে আস্ত সবুজ বাড়ি! হড়পা বানে কীভাবে অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেন নেপালের এই বাসিন্দারা?

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের একাধিক হৃদয়বিদারক ছবি সামনে এসেছে। তবে এর মধ্যে সবথেকে বেশি নজর কেড়েছে ত্রিশূলী নদীর ঠিক পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অদ্ভুত ‘সবুজ বাড়ি’। যখন জলের তীব্র স্রোতে আশেপাশের আস্ত সব ঘরবাড়ি, গাড়ি খড়কুটোর মতো ভেসে গিয়েছে, তখন এই একটি মাত্র বাড়ি কিভাবে অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়ে গেল—তা নিয়ে জল্পনার শেষ ছিল না। অবশেষে বিপর্যয় কাটতেই মুখ খুললেন ওই বাড়ির বাসিন্দারা।

ঠিক কী ঘটেছিল সেদিন? নেপালের নুয়াকোটের ত্রিশূলী বাজারের কাছে অবস্থিত এই ভাইরাল সবুজ বাড়িটি নিয়ে নেটদুনিয়ায় কম চর্চা হয়নি। কেউ দাবি করেছিলেন বাড়িটি কোনো রাজু মিস্ত্রির বানানো অত্যন্ত মজবুত ঘর, আবার অনেকের রটনা ছিল বাড়ির মালিকরা ক্রিশ্চান। তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে বাড়ির দুই বাসিন্দা লক্ষ্মী পাণ্ডে এবং প্রকাশ প্যাকুরেল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা হিন্দু।

ভয়ংকর সেই দুর্যোগের স্মৃতিচারণ করে লক্ষ্মী পাণ্ডে বলেন, “চারপাশে যখন মৃত্যুর তাণ্ডব চলছে, জলের প্রবল তোড়ে আমাদের বাড়ি কাঁপছে, তখন আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম। ওই পরিস্থিতিতে আমরা মনেপ্রাণে এক নাগাড়ে হনুমান চালিসা পাঠ করছিলাম এবং ‘ওম নমঃ শিবায়’ জপ করছিলাম। আমরা নিয়মিত পুজো করি। ঈশ্বরের অশেষ কৃপা এবং বজরংবলীর আশীর্বাদেই আমরা ওই যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। এটা আমাদের কাছে আক্ষরিক অর্থেই একটা পুনর্জন্ম।”

মৃত্যুর মিছিল নেপালে: উল্লেখ্য, হিমবাহ ধস ও আকস্মিক হড়পা বানের জেরে নেপালে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা যেমন হু হু করে বাড়ছে, তেমনই নিখোঁজের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪,২০০-র ঘর। রেড ক্রসের রিপোর্ট বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৯০ হাজার মানুষ। রাসুয়ার লাংটাং-লিরুং এলাকায় বিশাল বরফের চাই ধসে পড়ার ফলেই এই সর্বনাশা হড়পা বানের সৃষ্টি হয়েছিল। এমন এক মহাপ্রলয়ের মাঝেও ওই সবুজ বাড়ির মানুষের অলৌকিক বেঁচে ফেরার এই গল্প এখন নেটদুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *