এংজায়টি আর হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ তো এক! এই ছোট্ট পার্থক্যটা না জানলে বড় বিপদে পড়তে পারেন

বর্তমানের ব্যস্ত জীবনযাত্রায় বুক ধড়ফড় বা বুকে সামান্য অস্বস্তি হওয়াকে আমরা অনেকেই সাধারণ গ্যাস বা মানসিক চাপ (এংজায়টি) বলে এড়িয়ে যাই। কিন্তু সমস্যা হলো, এংজায়টি বা প্যানিক অ্যাটাক এবং মারাত্মক হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণগুলি একে অপরের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়। ফলে কোনটিকে সাধারণ ভয় ভেবে ছেড়ে দেওয়া উচিত আর কোনটির জন্য তৎক্ষণাৎ হাসপাতালে ছোটা দরকার, তা নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়েন।

দুই সমস্যার লক্ষণ যখন প্রায় একই: বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. এস কে আগরওয়ালের মতে, বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড ঘাম হওয়া, মাথা ঘোরানো কিংবা বমি ভাবের মতো লক্ষণগুলি প্যানিক অ্যাটাক এবং হার্ট অ্যাটাক—উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যেতে পারে। তাই খালি চোখে শুধু উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে দুটির মধ্যে নিশ্চিত পার্থক্য করা সবসময় সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় না।

কীভাবে বুঝবেন পার্থক্য?

  • এংজায়টি বা প্যানিক অ্যাটাক: এই সমস্যায় হঠাৎ করেই তীব্র ভয়, অতিরিক্ত বুক ধড়ফড় করা, হাত-পা কাঁপা বা ঝিনঝিন করার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এটি সাধারণত মানসিক উত্তেজনার কারণে ঘটে।

  • হার্ট অ্যাটাক: অন্যদিকে, হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকের মাঝখানে প্রচণ্ড চাপ, ভারী ভাব বা জাঁকিয়ে বসার মতো অনুভূতি হয়। এই ব্যথা হাত, পিঠ, ঘাড় বা চোয়াল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর সঙ্গে ঠান্ডা ঘাম এবং চরম দুর্বলতা দেখা দেয়।

যে ভুল একেবারেই করবেন না: বিশেষজ্ঞদের মতে, সিএন বা বুকের নতুন কোনো ব্যথাকে শুধুমাত্র ‘গ্যাস’ বা ‘এংজায়টি’ ভেবে অবহেলা করা মারাত্মক ভুল হতে পারে। যদি বুকে তীব্র চাপ বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে ঠান্ডা ঘাম ও মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখা যায়, তবে সময় নষ্ট না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে পরীক্ষা করালেই বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *