৭০০০ একর জমির মাত্র ৫০ একর দিলেই কেল্লাফতে! এক অদ্ভুত আইডিয়ায় খরা কিংবা মন্দার দিনেও ঘুম উড়েছে অভাবের

একই জমি থেকে কীভাবে দ্বিগুণ আয় করা সম্ভব, তার এক অনন্য এবং তাক লাগানো নজির তৈরি করলেন আমেরিকার কানসাসের এক পশুপ্রণেতা। সাধারণত কৃষকরা জমি হয় চাষবাসের জন্য ব্যবহার করেন, নতুবা পশুপালনের জন্য। কিন্তু পিট ফেরেল (Pete Ferrell) নামের ওই ব্যক্তি নিজের ৭,০০০ একর জমির মাত্র সামান্য অংশে বসিয়েছেন বিশাল সব উইন্ড টারবাইন। আর তাতেই খুলে গেছে তাঁর ভাগ্য!
কীভাবে চলছে এই দ্বৈত মডেল? পিটের কাছে ৭,০০০ একর বিশাল জমি রয়েছে, যেখানে তাঁর গবাদি পশুরা আগের মতোই স্বাধীনভাবে ঘাস চরে বেড়ায়। কিন্তু এই জমির মাত্র ৫০ একর অংশ তিনি লিজ দিয়ে দিয়েছেন ‘এলক রিভার উইন্ড প্রজেক্ট’ (Elk River Wind Project)-কে। ২০০৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে প্রায় ১৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫০টি বিশাল উইন্ড টারবাইন বসানো হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিশালাকার যন্ত্রপাতি বসার পরেও পশুপালনে বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি।
অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নতুন চাবিকাঠি: সাধারণত খরা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যখন ঘাস উৎপাদন ব্যাহত হয়, তখন পশুপ্রণেতাদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয়। কিন্তু পিটের ক্ষেত্রে এই উইন্ড টারবাইন থেকে আসা লিজের টাকা একটি স্থায়ী আর্থিক সুরক্ষার জোগান দেয়, যার সঙ্গে বৃষ্টি বা আবহাওয়া পরিবর্তনের কোনো সম্পর্ক নেই।
বিশেষ এই পরিবারের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে ১৯২৩ সালেও পিটের পরিবারে উইন্ড পাওয়ার ব্যবহারের প্রচলন ছিল। শতবর্ষের সেই ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়েই আজ আধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে তৈরি হচ্ছে প্রায় ৫.৫ লক্ষ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ, যা দিয়ে অনায়াসে ৪২ হাজার ঘরের সারা বছরের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব। যুগান্তকারী এই আইডিয়া এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।