আসল সত্যিটা কী? অর্থনীতির ডেটা কারসাজি নিয়ে মুখ খুলতেই সামনে এল বড় চাঞ্চল্যকর তথ্য

ভারতের অর্থনৈতিক বিকাশ তথা জিডিপি (GDP) এর প্রবৃদ্ধি এবং পরিসংখ্যান নিয়ে দেশজুড়ে চলা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কের মাঝেই বড়সড় সাফাই দিল কেন্দ্র সরকার। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে আগের বছরের জিডিপি বেস ৮৬.০৫ লক্ষ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৮০.১১ লক্ষ কোটি টাকা করার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে সমস্ত ধোঁয়াশা দূর করেছে পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রক (MoSPI)। সরকারের স্পষ্ট দাবি, এটি কোনো কৃত্রিম কারসাজি নয়, বরং জিডিপি সিরিজের পরিবর্তন এবং উন্নত ডেটা সোর্সের ফল।
জিডিপির অঙ্কে কেন এল এই পরিবর্তন? সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগে যেখানে ২০১৯-২০ বা পুরনো ২০১১-১২ বেস-ইয়ার সিরিজ ব্যবহার করা হচ্ছিল, বর্তমানে নতুন বেস-ইয়ার (২০২২-২৩) সিরিজ চালু করা হয়েছে। এই নতুন কাঠামোর কারণেই পুরানো অনুমানের সঙ্গে বর্তমান পরিসংখ্যানের তফাত তৈরি হয়েছে। সরকারের দাবি, ৮৬ লক্ষ কোটির পুরনো হিসাবের সঙ্গে বর্তমান ত্রৈমাসিকের সরাসরি তুলনা করা একেবারেই ভুল, কারণ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সিরিজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
মূল বিষয়গুলি একনজরে:
-
নতুন বেস ইয়ার: অর্থনৈতিক সূচকগুলিকে আরও নিখুঁত করতে বেস ইয়ার পরিবর্তন করা হয়েছে।
-
ডাবল ডিফ্লেশন ও ম্যানুফ্যাকচারিং: উৎপাদন ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এবং ইনপুট-আউটপুট খরচের তারতম্যের কারণে জিভিএ (GVA) ডিফলেশনে যে তারতম্য দেখা দিয়েছে, তারও প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা দিয়েছে মন্ত্রক।
-
সিপিআই এবং ডব্লিউপিআই থেকে আলাদা কেন? সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খুচরা মূল্যস্ফীতি (CPI) বা পাইকারি মূল্যস্ফীতির (WPI) সঙ্গে জিডিপি ডিফ্লেটারের হিসাব মেলে না। কারণ জিডিপির পরিধি অনেক বড়, যেখানে গোটা দেশের অর্থনীতি, সরকারি খরচ, পরিষেবা এবং কর্পোরেট বিনিয়োগ যুক্ত থাকে।
সব মিলিয়ে, জিডিপি পরিসংখ্যানের এই মারপ্যাঁচ ও ডেটা সংশোধনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরার কথাই বারবার জোর দিয়ে জানিয়েছে কেন্দ্র।