হিমবাহ ধসে সর্বস্বান্ত! নেপালের সুড়ঙ্গে আটকে প্রায় ১০০০ মানুষ, এখনও উদ্ধার করা গেল না কেন?

হিমবাহ ভাঙার ফলে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি পরিস্থিতি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ বা টানেলে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধার কাজ। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, বাঁধ এবং সুড়ঙ্গগুলির ভেতর এখনও প্রায় ১০০০ কর্মী ও সাধারণ মানুষ আটকে বা নিখোঁজ রয়েছেন।
নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি প্রবল ভূমিধসে বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সংযোগকারী রাস্তাঘাট ও সেতুগুলি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গেছে। এর ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারী উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি ও ক্রেন সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না। সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুড়ঙ্গের ভেতরে জমে থাকা কাঁদা, মাটি, এবং বিশাল আকৃতির পাথরের স্তূপ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সুড়ঙ্গের ভেতরের এই ধ্বংসস্তূপ এবং দুর্বল হয়ে পড়া পাথরের কাঠামো না সরিয়ে তাড়াহুড়ো করে খননকার্য চালালে আরও বড় ধস নামতে পারে।
ত্রিশূলী এবং চিলিমে সহ মোট ১২টি বড় হাইড্রোপ্রজেক্টের সুড়ঙ্গগুলোতে জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। তবে অবরুদ্ধ সুড়ঙ্গের ভেতর আটকে থাকা মানুষগুলোর কাছে পৌঁছানোর কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে ভারতের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের সাহায্য চেয়েছে নেপাল সরকার। সুড়ঙ্গের ভেতর এখনও পর্যন্ত অনেকের বেঁচে থাকার ক্ষীণ আশা রয়েছে বলে মনে করছেন উদ্ধারকর্মীরা, তবে সময় যত গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে উৎকণ্ঠা।