মিটিং-মিছিলের রাজনীতি ছাড়ুন! তরুণদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে বড় বার্তা সংখ্যালঘু মহলের

রাজনৈতিক মিটিং-মিছিল বা সমাবেশে গিয়ে সাময়িক উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়ার দিন শেষ! ছোটখাটো রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়ে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ বিপন্ন না করে তরুণ প্রজন্মকে পড়াশোনা এবং কেরিয়ার গড়ার দিকে মন দেওয়ার পরামর্শ দিল দেশের বিভিন্ন সংখ্যালঘু মহল। সম্প্রতি রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে আইনি জটিলতা এবং প্ররোচনার ফাঁদ থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখার বার্তা দিয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কড়া অবস্থান নিয়েছেন।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ফলে সাধারণ তরুণদের অনেকেই অজান্তেই আইনি জটিলতা বা বড়সড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। অনেক সময় ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংযোগ না থাকলেও পরিস্থিতি খারাপ হলে তার খেসারত দিতে হয় তরুণদেরই। এই প্রসঙ্গেই বিশিষ্ট আইনজীবী সৈয়দ নাসিরুল ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানান, কেউ পড়াশোনা করছেন, কেউ আবার চাকরির সন্ধান করছেন—তাই অন্যের প্ররোচনায় কান দিয়ে নিজের জীবন ও ভবিষ্যৎ বাজি রাখা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। দেশের আইন ও সংবিধানের সীমার মধ্যে থেকে নিজের অধিকার প্রয়োগ করার পাশাপাশি তরুণদের পড়াশোনা এবং পরিবারের ছোটদের ভবিষ্যতের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

একই সুরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডের সদস্য মৌলানা আবু তালিব রহমনি জানিয়েছেন, দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অবদান রয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য দেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। ক্ষমতার অপব্যবহার বা মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরির মতো বিষয়গুলি থেকে যুবসমাজকে দূরে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, দুর্গাপুর ল’কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজকর্মী নওশাদ আনোয়ার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, একজন ব্যক্তি নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী হতেই পারেন, তবে একটি গোটা সম্প্রদায়কে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। সংখ্যালঘু হোক বা অন্য যে কোনো সম্প্রদায়ের মানুষ, প্রত্যেকেই দেশের নাগরিক। তাই রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে যাতে দেশের শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, সাময়িক প্ররোচনা এড়িয়ে পড়াশোনা ও আত্মবিকাশকেই তরুণ প্রজন্মের প্রধান লক্ষ্য করার বার্তা জোরালোভাবে উঠে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *